
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব মন্ত্রী বাদ দিয়ে আরও ১০০ জনকে মন্ত্রী বানাতে পারেন। একজন পাগলকেও মন্ত্রী বানাতে পারেন। কিন্তু তার পদত্যাগ করার সুযোগ নেই এই সংবিধান অনুযায়ী।’
সোমবার (১২ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নিজ বাসভবন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি সব সময় মানুষের পক্ষে বা ন্যায়সঙ্গত কারণের পক্ষে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে কোনো সরকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশে হয়েছিল। এখন সংবিধানে নেই। এরশাদকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা হয়েছিল।’
রাজনীতিতে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করতে পারলে সেখানে সবই আইন, আর না পারলে সবটাই বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে। আর না হলে আমার বোনের (প্রধানমন্ত্রী) কোনো উপায় নেই তিনি তার প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন।’
এ সময় তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো জোটে যাব কি-না জানি না। তবে বিএনপির সঙ্গে কোনো জোটে যাব না।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে ভিসানীতি বিষয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা সব সময় থাকে। যে কোনো দেশ তার ইচ্ছেমত ভিসা দেয়। প্রতিবেশি ভারত, দুইজনের জন্য দরখাস্ত করলে রোগীকে ভিসা দেয় আর তার সঙ্গে যে থাকে, তাকে দেয় না। এটা তাদের ইচ্ছেমতো এবং পৃথিবীর সবার ইচ্ছেমতোই ভিসা দেয়। বাইরের লোকেরা যে আমাদের দেশে আসে, আমাদের দূতাবাসগুলো একই কাজই করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে কথা থাকত না। ভিসা নিয়ে কথা আসছে রাজনীতির কারণে। আমি মনে করি, এই ভিসার যে কড়াকড়ি বা ভিসার যে অস্ত্র, এর লক্ষ্য হলো— জাতীয় নির্বাচনে যেন কেউ বাধা না দেয়। আর বাধা দিলে তার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। এটা আমাদের অপমাণ করা ছাড়া আর কিছু না।’
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা।
এএ