
দুই দিনের সফরে চীনে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। রোববার (১৮ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুইন গ্যাংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। প্রায় পাঁচ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কূটনীতিক চীন সফর করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই সম্পর্ক স্থিতিশীল করতেই দুই পক্ষের মধ্যে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাসে আগেই ব্লিঙ্কেনের চীন সফরের কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা ‘গোয়েন্দা’ বেলুনের উপস্থিতি শনাক্তের পর ওই সফর স্থগিত করা হয়।
বেইজিংয়ের একটি সরকারি অতিথি ভবনে ব্লিঙ্কেনকে অভ্যর্থনা জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় দুজন করমর্দন করেন। পরে নিজ নিজ প্রতিনিধিদল নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসেন তাঁরা। এই সফরে ব্লিঙ্কেনের চীনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াং ইর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে কি না, তা জানা যায়নি।
দ্বিপক্ষীয় এ আলোচনা থেকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে না যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, বেলুন–কাণ্ডের পর ওয়াশিংটন–বেইজিং সম্পর্কে যে বৈরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাভাবিক করা এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পথগুলো চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তাঁরা।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে আগে থেকেই বড় বাধা হয়ে ছিল তাইওয়ান ইস্যু। এই দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে চীন। তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়াও চালিয়েছে বেইজিং। এদিকে তাইওয়ানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। চীনের বিরুদ্ধে তারা তাইওয়ানকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া নানা বিষয় নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যেমন ইউক্রেন যুদ্ধ, উন্নত কম্পিউটার প্রযুক্তি নিয়ে বাণিজ্যিক তিক্ততা, যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল ওষুধের ব্যবহারে মৃত্যুর ঘটনা এবং চীনের মানবাধিকার–সংক্রান্ত বিষয়গুলো। এ সব কিছুই ব্লিঙ্কেনের চলতি সফরে আলোচনায় স্থান পাবে।
এর আগে গত নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বৈঠক করেছিলেন সি চিন পিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে বেলুন–কাণ্ডের পর এই দুই নেতার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ঘটনা বিরল।
এএ