অস্ট্রেলিয়ার কয়লা রফতানি আগামী তিন বছল বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় অপরিচ্ছন্ন জ্বালানিটির ক্রমবর্ধমান চাহিদা অস্ট্রেলিয়ার কয়লা খাতের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে বলে মনে করছেন দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা। অস্ট্রেলিয়ার একটি সরকারি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর মাইনিং ডটকম।
প্রান্তিকভিত্তিক এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অন্তত ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধাতব ও তাপীয় কয়লা রফতানি বিপুল পরিমাণে বাড়বে। মূলত বিদ্যুৎ ও ইস্পাত উৎপাদনে এসব কয়লা ব্যবহার হয়।
অস্ট্রেলিয়ান কয়লার সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। কভিড-১৯ মহামারীর শুরুর দিকে কূটনৈতিক বিরোধের কারণে দেশটি থেকে কয়লা আমদানির ওপর অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বেইজিং। চলতি বছরের শুরুর দিকে এ নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হলে দুদেশের মধ্যে কয়লা বাণিজ্য ফের গতিশীল হয়ে ওঠে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ কয়লা রফতানিকারক। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ রোধে কয়লার ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেও অস্ট্রেলিয়া দৃশ্যত সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি সমালোচনার মুখেও পড়েছে।
সমালোচনার মুখে দেশটির সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। সোলার প্যানেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরিতে যেসব ধাতুর প্রয়োজন হয়, সেসব ধাতু উত্তোলন বৃদ্ধিতেও মনোযোগ বাড়ানোর কথা জানায় দেশটি। কিন্তু এর পাশাপাশি কয়লা খাতেও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বন নিঃসরণে সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয় তাপীয় কয়লাকে। চলতি বছর এটির রফতানি এর আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়াবে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ধাতব কয়লার রফতানি বাড়তে পারে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে কয়লার দাম কমে যাওয়ায় রফতানি আয় নিম্নমুখী হয়ে পড়তে পারে।
এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার এলএনজি রফতানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমতে পারে। তবে লিথিয়াম, তামা ও নিকেল রফতানি বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখতে পারে। আগামী তিন বছরের মধ্যে লিথিয়াম রফতানি ২০-৩০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ রফতানি থেকে আয় এসেছে ৩০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রফতানি আয়ে এমন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। তবে আগামী বছরগুলোয় রফতানি আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এনজে