মেঘনা নদীর ওপর চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু নির্মাণে ইলিশ মাছ বা নদীর পরিবেশগত কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না। এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষজ্ঞরা এই দাবি করেন।
সরকারের সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ’ মেঘনা নদীর ওপর চাঁদপুর ও শরীয়তপুরে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই শুরু করে আরও আগে। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই প্রকল্পের আওতায়, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করতেই মূলত জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এই সভা। এর আগে বুধবার (১২ জুলাই) শরীয়তপুরের চরসেন্সাস ইউনিয়ন পরিষদে একই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সেতু প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান, আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সমির কুমার ব্যানার্জী, ড. তাজুল ইসলাম, বশির আহমেদ, সেতু বিভাগের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আইরিন নাহার বক্তব্য দেন।
এ সময় লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাশেম খান, হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাত্তার রাঢ়ীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল শিক্ষক, এলাকার বিশিষ্ট জন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা অংশ নেন।
সেতু কর্তৃপক্ষের পরামর্শক আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. সমির কুমার ব্যানার্জী বলেন, এই মেঘনা নদীতে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের পূর্বাঞ্চলের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সরকার দুই পাশে আট কিলোমিটার এপ্রোস সড়কসহ দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটারেরও বেশি একটি সেতু নির্মাণ করবে। যার মাঝখানে ক্যাবল স্টেইড বা ঝুলন্ত থাকবে। আর এটি নির্মাণ হলে পরিবেশগত কী কী প্রভাব পড়তে পারে। এই বিষয়ে এর আগেই সরকারি সব পর্যায়ে আলোচনা করা হয়। তবে এখন স্থানীয়দের মাঝে সেতু নিয়ে কী ধারণা এবং তাদের মতামত কী। তা জানতে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে দেয়ার জন্যই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, নদীর ওপর মূল সেতু ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার হলেও এর দুই পাড়ে আরও ৮ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে।
তবে কত নির্মাণ করতে সাড়ে পাঁচ বছর সময় লাগলেও কত টাকা ব্যয় হবে এবং টাকার যোগান কোথা থেকে আসবে। এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।
এএ