
আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ২৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবু মাল আবদুল মুহিত।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।
গত অর্থবছরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে ২৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। পরবর্তীতে তা কমিয়ে এই খাতে ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে আইনি কাঠামো যুগোপযোগীকরণের পাশাপাশি নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রবাসী আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এবছরও সরকারিভাবে স্বল্প ব্যয়ে বিদেশে কর্মী প্রেরণে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছে এমন দেশে প্রবাসী কল্যাণ উইং চালুর বিষয়েও বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে আগামী ৫ বছরে মালয়েশিয়ায় ৫ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে প্রবাস আয়ে আশাব্যঞ্জক উন্নতি হবে বলে আশা করছি। বিদেশে মহিলা শ্রমিক প্রেরণের কার্যক্রমের পুনর্বিবেচনা করা হবে।
মুহিত বলেন, আমাদের ভূমির স্বল্পতা আছে। সেইসঙ্গে রয়েছে উদ্যমী জনগোষ্ঠীও। বিশ্বের অনেক দেশেই ভূমি ও অবকাঠামোগত প্রাচুর্য থাকলেও জনশক্তির স্বল্পতা রয়েছে। এসব দেশে আমাদের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টি করতে পারলে উভয় পক্ষই লাভবান হবো।
তিনি আরও বলেন, শর্তসাপেক্ষে বিশেষ কিছু খাতে আমাদের উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে উপকরণ আয়ের পরিমাণ অনেকখানি বাড়ানো সম্ভব। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত বিদেশিরা প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ তাদের দেশে নিয়ে যায়। দেশীয় ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এদের প্রতিস্থাপন করা গেলে উপকরণ আয়ের এ বহিঃপ্রবাহও হ্রাস পাবে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নিট উপকরণ আয়ের বৃদ্ধি মাথাপিছু জাতীয় আয় বাড়াবে, যা জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস