চলতি মৌসুমে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ভরা মৌসুমে ইলিশ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা। অনেক জেলে পেশা বদল করছেন। এতে দিন দিন কমছে জেলের সংখ্যা। তবে ইলিশ গবেষকরা বলছেন নদীতে ডুবোচরের কারণে ইলিশের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।
ভোলা সদর, দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও মনপুরার মেঘনার তীরে দেখা গেছে, মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশ শিকারের জন্য কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জাল ফেলছেন জেলেরা। কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। যা পাচ্ছেন তা বিক্রি করে ট্রলারের তেলের দাম পরিশোধের পর প্রায় ২০০-৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। আবার কোনো কোনো জেলের ভাগ্যে তাও জুটছে না। ফলে জেলেদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ২-৩ বছর ধরে ডুবোচর আরও বেড়েছে। অথচ এগুলো খনন করা হয় না। সরকারের প্রতি আবেদন দ্রুত এসব ডুবোচর খনন করা হোক। খনন না করলে ভাবিষ্যতে নদীতে ইলিশ না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলেদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের শীর্ষ মৎস্য বিজ্ঞানী ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিসুল রহমানও।
তিনি জানান, ইলিশ মাছ গভীর সাগর থেকে ভোলার মেঘনা নদী দিয়ে প্রবেশ করে তেতুলিয়া ও পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে যায়। আর দেশের প্রায় ৩৫ ভাগ ইলিশ উৎপাদন হয়ে থাকে ভোলায়। ইলিশ যখন সাগর থেকে ভোলা উপকূলের মেঘনা নদীতে প্রবেশ করতে গিয়ে ডুবোচরে বাধাগ্রস্ত হয় তখন দিক পরিবর্তন করে ফের সাগরের দিকে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, নদীর ওই ডুবোচর চিহ্নিত করে ড্রেজিং করলে যেমন জীববৈচিত্র্য ঠিক থাকবে তেমনি মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে গভীরতা বেশি থাকবে। পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মিলবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ জানান, ডুবোচর খননে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খনন কাজ দ্রুত শুরু হবে। খনন হলে নদীতে ইলিশ সঙ্কট থাকবে না। তবে দ্রুত খনন করা না হলে ডুবোচর আরও বাড়বে। তখন ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী ইলিশ-শূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনজে