
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ। জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বসম্প্রদায়কে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পৃথিবীতে জনসংখ্যা বাড়ছে। বাড়তি জনসংখ্যার কারণে পরিবেশের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। জনসংখ্যার আধিক্য এবং মানুষের অপরিণামদর্শী কাজের ফলে ঝুঁকিসঙ্কুল হয়ে উঠছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পৃথিবীর জলভাগের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণীর বেআইনি ব্যবসার ফলে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এর প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গো ওয়াইল্ড ফর লাইফ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি আরও বলেন, রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে সরকার। তবে উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে পরিবেশের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দ দূষণ রোধেও আইনানুগ ও সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকারখানার দূষণ থেকে দেশের মাটি, নদ-নদীকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্প এলাকা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবেশসম্মত উপায়ে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে পানি, মাটি ও বায়ু দূষণরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিল্প উদ্যোক্তাদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ এবং ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড’ গঠন করেছে সরকার। একইসঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিপন্নতার কথা তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নৈসর্গিক পরিবর্তন রোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করছে সরকার। সূত্র: বাসস
সানবিডি/ঢাকা/এসএস