
চলতি বছরের শেষে আবারো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাস জোট জ্বালানি তেলের উৎপাদন সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যার প্রভাবে ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে চড়া যাবে পেট্রোলিয়ামের বৈশ্বিক বাজার। খবর রয়টার্স।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) অনুসারে, জুনের শেষে ওইসিডি উন্নত অর্থনীতিতে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের বাণিজ্যিক ইনভেন্টরির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ হাজার ২১০ লাখ ব্যারেল। বাণিজ্যিক ইনভেন্টরিগুলোয় আগের ১০ বছরের মৌসুমি গড় থেকে মাত্র ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল কম ছিল।
সৌদি আরব পূর্ব ঘোষিত উৎপাদন হ্রাস ছাড়াও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজার থেকে অতিরিক্ত নয় কোটি ব্যারেল সরবরাহ কমিয়ে ফেলবে। অন্যদিকে রাশিয়াও উৎপাদন হ্রাসের পথে হাঁটতে যাচ্ছে। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটি আরো ২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। খরচের দিক থেকে ব্যবসায়ীরা মার্কিন অর্থনীতির সফট ল্যান্ডিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ক্রমে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়া, বেকারত্বের সূচকে অবনমন ও মন্দা এড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী হচ্ছেন। পরিশোধিত জ্বালানির ইনভেন্টরিগুলো দীর্ঘমেয়াদে গড়ে ভালো পারফর্ম করেছে, বিশেষ করে পাতনকারী জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে। ফলে রিফাইনারদের কাছে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা আগামীতে জোরালো হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিন্তু ইউরোপের উৎপাদন খাত পুনরুদ্ধারের কিছু লক্ষণ দেখাচ্ছে। তবে চীনের উৎপাদন কার্যক্রম ক্রমেই কমেছে। যদিও করোনাভাইরাস মহামারীর নিষেধাজ্ঞা কাটার পর ২০২৩ সালের মধ্যে চীনের অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হয়েছিল। প্রত্যাশিত সে পুনরুদ্ধার বারবার বিলম্বিত হয়ে দেশটির অর্থনীতির গতি হারাচ্ছে। ফলে মন্দার মুখে পতিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওপেক ও এর মিত্রদের উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তও বাজারকে চাঙ্গা করে তুলছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জোটটি গত জুন থেকে আরো ব্যাপক মাত্রায় উত্তোলন কমানোর পদক্ষেপ নেয়। অন্যদিকে মার্কিন অর্থনৈতিক সফট ল্যান্ডিং, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ইউরোপ ও চীনে মন্দার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার ফলাফল হিসেবে প্রত্যাশিত বাজার ভারসাম্য জুন থেকে কেবল কঠোর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের মূল্য আগস্ট পর্যন্ত গড়ে ব্যারেলপ্রতি দর ৮৬ ডলারের নিচে রয়েছে। জুনে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে অভিযোজন হিসেবে গড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলার ছিল, যা তুলনামূলকভাবে সামান্য বৃদ্ধি। ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে সৌদি আরব ও তার ওপেক প্লাস মিত্রদের মূল্য রক্ষার্থে কমপক্ষে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বর্তমান উৎপাদন হ্রাস কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে।
এনজে