ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদন করেছে যেসব প্রতিষ্ঠান
সানবিডি২৪ আপডেট: ২০২৩-০৮-২১ ২১:৪৩:১৭

প্রথম দিকে সাড়া পাওয়া না গেলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছে। এরমধ্যে ব্যাংক, নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান কেউ এককভাবে আবার কেউ যৌথভাবে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে ৯টি ব্যাংক যৌথ উদ্যোগে ‘ডিজি১০ ব্যাংক পিএলসি’ নামে ডিজিটাল ব্যাংক খোলার জন্য আবেদন করেছে। এরমধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানায়, ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদনের জন্য ওয়েব পোর্টাল খোলা হয়। নির্ধারিত সময়ে ৫২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে নীতিমালা অনুযায়ী শর্তানুযায়ী লাইসেন্সের জন্য লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই) দেবে পরিচালনা পর্ষদ।
যেসব প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে:
‘ডিজি টেন পিএলসি’ নামে ১০ ব্যাংকের জোট ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই ১০টি ব্যাংক সব মিলিয়ে ১২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে। এই জোটে রয়েছে সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ণ ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’–এর সঙ্গে বর্তমান উদ্যোক্তা ব্র্যাক ব্যাংকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ‘মানি ইন মোশন এলএলসি, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, অ্যান্ট গ্রুপ ও সফটব্যাংক ভিশন ফান্ড। ‘নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ গঠনের জন্যও আবেদন করেছে নগদের বর্তমান ও অন্যান্য কিছু উদ্যোক্তা।
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, রূপালী, অগ্রণী মিলে জোটবদ্ধভাবে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের আবেদন করেছে। মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক ও তাদের মূল কোম্পানি ভিওন মিলে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের আবেদন জমা দিয়েছে।
বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি উপায়ের নেতৃত্বে একটি জোট আবেদন করেছে। তার নাম ঠিক করা হয়েছে ‘উপায় ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’। এই জোটে আছে বেসরকারি ব্যাংক এনআরবিসি ও মেঘনা। এর সঙ্গে রয়েছে ইউসিবির উদ্যোক্তাদের কোম্পানি আরামিট, যারা মূলত ঢেউ শিট উৎপাদন করে। এই জোটে আরও আছে ইউসিবির উদ্যোক্তাদের কোম্পানি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস। জেনেক্স ইনফোসিস হলো এনআরবিসির কয়েকজন উদ্যোক্তার কোম্পানি।
এ ছাড়া ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাও ডিজিটাল ব্যাংক করার আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘পাঠাও ডিজিটাল ব্যাংক’ নামে এ ব্যাংক করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন পেলে তাতে অনেক তরুণ উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ চালুর অনুমোদন দেয়। পরের দিন এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করে। পরবর্তীতে ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক দফা বাড়িয়ে গত ১৭ আগস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে।
নীতিমালায় অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের কোন শাখা, উপশাখা, এটিএম বুথ বা কোন স্থাপনা থাকবে না। মোবাইল বা অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন। তাদের সশরীরে ব্যাংকের কোন শাখায় যেতে হবে না। মোবাইল আর ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে গ্রাহকদের দেবে ব্যাংক সেবা। এই ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য লাগবে ১২৫ কোটি টাকা, পরিচালক হতে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা লাগবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক এই চলবে।
এম জি







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













