
বিশ্ব এ্যাক্রেডিটেশন দিবস-২০১৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে ৯ জুন, ২০১৬ তারিখে “এ্যাক্রেডিটেশন : সরকার ও নিয়ন্ত্রকদের নীতি নির্ধারণে সহায়তার ক্ষেত্রে এ্যাক্রেডিটেশন একটি বৈশ্বিক হাতিয়ার” বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, এমপি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মাননীয় শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, এমপি বলেন, এ্যাক্রেডিটেশন হচ্ছে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গুণগত মানসনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার একটি বিশ্ব স্বীকৃত পন্থা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ল্যাবরেটরির পরিমাণ যত বাড়বে, এদের প্রদত্ত মানসনদের গ্রহণযোগ্যতা তত বাড়বে, তার মাধ্যমে উন্নত দেশের ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের গুণগতমান সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের এ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি স্থাপনে বর্তমান সরকার নীতি সহায়তা প্রদান করছে। তিনি এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সকল টেস্টিং ল্যাবরেটরির অবকাঠামোগত উন্নয়নে সম্ভব সব ধরণের নীতি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিএবি’র কার্যক্রম গতিশীল করতে আমরা জাতীয় মান নীতি প্রণয়ন করেছি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সারা বিশ্বে মান সম্পন্ন পণ্যের চাহিদা প্রচুর তাই বাংলাদেশ বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) হতে সনদ লাভকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা কে আরো বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। তিনি আরোও বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার বিএসটিআই’র সক্ষমতা অনেকাংশেই বৃদ্ধি করেছে এবং এ ধারাবাহিতকা অব্যাহত থাকবে।
ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, এ্যাক্রেডিটেশনের অভাবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রাসরণ এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) গঠনের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরীক্ষাগার, সনদ প্রদানকারী সংস্থা, পরিদর্শন সংস্থা স্থাপনের আহবান জানান। তিনি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং মান সনদ প্রদানকারী গবেষণাগারের গুনগতমানের বিষয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ আলতাফ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)’র মহাপরিচালক মোঃ আবু আব্দুল্লাহ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, এ্যাক্রেডিটেশন পণ্য ও সেবার গুনগত মান বৃদ্ধির পাশপাশি সরকারি নীতি প্রণয়নে সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তাবৃন্দ নিজের উৎপাদিত পণ্য এ্যাক্রেডিটিশন-এর আওতায় নিয়ে আসলে তা অধিক মূলে বিশ্ববাজারে বিক্রি করতে পারবে।
অন্যান্যদের মধ্যে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন।
সানবিডি/ঢাকা/আহো