
বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার ফের বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরব ও রাশিয়া জ্বালানিটির রফতানি কমিয়ে দেয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত এ কারণেই ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার। তবে উচ্চ সুদহারের কারণে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদাও কমার আশঙ্কা রয়েছে। খবর রয়টার্স।
আইসিই ফিউচারসে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৬১ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৫ ডলার ৪১ সেন্টে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৬৩ সেন্ট বেড়ে ৮১ ডলার ৮৮ সেন্টে উন্নীত হয়েছে।
ফিউচার মার্কেটে উভয় বাজার আদর্শের দাম টানা সাত সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে গত সপ্তাহে দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে যায়। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাজার আদর্শ দুটির দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির ধারা আগামী দিনগুলোয়ও অব্যাহত থাকতে পারে। এ বাস্তবতায় ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়েছে। ফলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে এটি আরো ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং দেশটির প্রপার্টি খাতে চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা আরো কমার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আর্থিক পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএনজির পণ্যবাজার গবেষণাপ্রধান ওয়ারেন পেটারসন বলেন, ‘চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকুচিত থাকবে। ফলে দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি টানা তৃতীয় মাসের মতো কমেছে। জুনে রফতানি কমে ২১ মাসের সর্বনিম্নে। জয়েন্ট অর্গানাইজেশন ডাটা ইনিশিয়েটিভ (জেওডিআই) এ তথ্য জানায়।
সৌদি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা অঞ্চল এশিয়া। তবে কম দামের সুবিধা পেতে সম্প্রতি অঞ্চলটি রাশিয়ার বাজার থেকে জ্বালানিটির আমদানি বাড়িয়েছে। এ কারণে সৌদি আরব থেকে আমদানি কমেছে। এ বিষয়কেই দেশটির রফতানি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা।
জুনে সৌদি আরব দৈনিক ৬৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করে। মে মাসের তুলনায় রফতানি ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ওই মাসে রফতানি করা হয়েছিল ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন জুনে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। ওই সময় দেশটি দৈনিক ৯৯ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন করে।
এনজে