
মহামান্য রাষ্ট্রপতি,
আসসালামু আলাইকুম।আশা করি পরম করুণাময় আল্লাহর রহমতে আপনি ভাল আছেন। আপনি দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য আচার্য ও অভিভাবক। সত্যি বলতে আমি একজন ছোট শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার নিকট চিঠি লিখতে ভয় পাচ্ছি। কিন্তু না লিখেও পারছিনা। তাই আমার অভিভাবক হিসেবে লেখায় কোন ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
ইতিমধ্যেই দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি) ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৩,৩৯০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন করেছে। এ মাসেই হয়তো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রকাশিত হবে। আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য অভিভাবক হিসেবে আপনার নিকট একটি এ-গ্রেড ভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইউজিসির বিমাতাসুলভ আচরণের চিত্র উপস্থাপন করতে চাই। প্রতি বছর অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গড় বাজেটের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যাবধান হয়। বাজেট বৈষম্যের এমন চিত্র ইউজিসির প্রতিবেদনেই সুস্পষ্ট।
স্যার, ইউজিসির এক বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয় সর্বাধিক ৮৮ হাজার ৮১৭ টাকা ও সর্বনিম্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৬৩৩ টাকা। যেখানে একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয় ২১ হাজার ৯৬১ টাকা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ হাজার ৬৩ টাকা এবং সর্বশেষ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩ হাজার ১৮২ টাকা। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়,২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ঢাবিতে ৪শ’ ২৫ কোটি ৫০ লাখ,চবিতে ১৭৬ কোটি ,রাবিতে ২৯৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বাজেট অনুমোদন হয়েছে। অথচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বাজেট ধরা হয়েছিল ৫১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
স্যার, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষকদের খাতা দেখার সন্মানিও আটকে থাকতে দেখা যায়। গবেষণা খাতে যে বরাদ্দ রয়েছে তা একজন মন্ত্রীর গাড়িতে বছরে তেল খরচের চেয়ে কম। পর্যাপ্ত পরিবহন সমস্যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বাস থেকে পড়ে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারগুলোতে পর্যাপ্ত বই না থাকায় শিক্ষার্থীদের পরাশুনা ব্যাহত হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন কচ্ছপের গতিতে এগুচ্ছে।
স্যার,আপনাকে আরেকটি কথা বলতেই হয়। ২১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাত খাওয়ার ব্যাবস্থা নেই।কেন্দ্রীয় ক্যান্টিনে চড়া দামে বিক্রি হয় নিম্ন মানের হলুদ মাখা ভাত। যাকে আমরা খিচুরি বলি। যা আমাদের শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্যান্টিনে কোন ভর্তুকি নেই। নিম্ন মানের চড়া দামের খাবারের কারণে আমরা প্রায় দিনই না খেয়ে থাকি। আমরা বলতে গেলে পুরো বছরই রোজা রাখি। সারা দিন প্রায়ই না খেয়ে থেকে আমরা ক্লাসের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারিনা। সব সমস্যার মূলে কাজ করছে অপর্যাপ্ত বাজেট। স্যার, মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা বাংলাদেশের কেউ না আমরা বিহারী পল্লীর কোন সদস্য। আমাদের কোন অভিভাবক নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেও বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কিছুই করতে পারে না। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’এমন পরিস্থিতি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির।
স্যার, আজ জবির অভিভাবক হিসেবে আপনার নিকট বাধ্য হয়ে কিছু লিখেছি। যদিও জবি থেকে কান্নার আওয়াজ বঙ্গভবনে যাওয়ার কথা নয়। তার পরেও বলবো, আমরা আপনার সন্তান আপনি আমাদের অভিভাবক। দয়া করে আপনি একবার আসুন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ,একবার শুধু দেখে যান কীভাবে আমরা দিনপাত করছি। আমরা কান্না করলে চোখ দিয়ে রক্ত বের হয় স্যার। আমাদের কান্না শোনার কেউ নেই। এভাবে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।
স্যার ,ছোট মানুষ হিসেবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে হয়তো অনেক কথা বলে ফেলেছি। এর জন্য আমাকে আপনার সন্তান মনে করে ক্ষমা করে দিবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার ২১ হাজার সন্তানের কথা ভেবে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই জবির বাজেট বৃদ্ধি করতে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তাহলে আমরা সারা জীবন আপনার নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকবো।
আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করে আজ এখানেই শেষ করছি স্যার,আসসালামু আলাইকুম।
ইতি-
শিক্ষার্থী,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
সানবিডি/ঢাকা/আহো