কাকের জন্য গাড়ি বদল!

আপডেট: ২০১৬-০৬-১২ ২০:২০:২৭


imageকালো বেড়াল রাস্তা পার করলে অনেকেই সংস্কারবশে গাড়ি থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু, গাড়ির বনেটে যদি কাক এসে বসে! তা হলে কি গোটা গাড়িটিই বদলে নয়া গাড়ি কিনবেন? অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই ঘটেছে কর্নাটকে। তবে কোনও আম আদমি নন, গত সপ্তাহেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।

শেষমেশ একটা বেয়াড়া কাকের জন্যই কি সরকারি গাড়িবদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া? প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তবে বিষয়টা নিয়ে তারা যতই ‘কা-কা’ করুন না কেন, তাতে পাত্তা দিয়ে নারাজ কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন তিনি। ঠিক কী ঘটেছিল?

আর-পাঁচটা দিনের মতোই ছিল সে দিনটা। বাসভবন থেকে তৈরি হয়ে নিজের দফতরে যাওয়ার জন্য রওনা দিতে তোড়জোড় করছিলেন সিদ্দারামাইয়া। গাড়িতে উঠতে যাবেন, হঠাৎই নজরে এল বনেটে বসে একটা কাক। প্রথমে তিনি নিজে তা তাড়ানোর চেষ্টা করেন, কোনও কাজ না হওয়ায় ডেকে আনেন তাঁর কর্মচারীদের। হুশহাস করে যতই তাকে সরাতে চেষ্টা করা হোক না কেন বনেটে ঠায় বসে থাকে সে।

কোনও উপায়ান্তর না দেখে এর পর কাকটিকে ধরে ফেলে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কাহিনি এখানেই শেষ নয়। দুর্জনেরা বলেন, এর পর জ্যোতিষীকে তলব করেন মুখ্যমন্ত্রী। বনেটে কাক বসাটা যে অশুভ? এমনটাই মত ছিল নাকি জ্যোতিষীদের। তবে উপায়? গোটা গাড়িটিই বদলে ফেলার নিদান দেন জ্যোতিষী মশাই। এর পর থেকেই নাকি মুখ্যমন্ত্রী বাসভবনে শোভা পাচ্ছে সেই পুরনো গাড়ির বদলে এক ঝাঁ চকচকে টয়োটা ফরচুনার।

এই ঘটনার পর থেকে কাক-কাহিনিতে হাওয়া লেগেছে। তবে গোটা বিষয়টাই যে বিরোধীদের অপপ্রচার তেমনটাই দাবি করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী দফতর থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো গাড়িটি নাকি তিন লাখ কিলোমিটার ছুটেছে। ফলে শীঘ্রই তা বদলানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। গত সপ্তাহে নতুন গাড়ি আসার পর শনিবার থেকে তা চড়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীরা অবশ্য এতেও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কে জানে শনিবারটা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শুভদিন কি না?

সানবিডি/ঢাকা/আহো