
আশুলিয়ায় টানা ৩৬ ঘণ্টা আন্দোলনরত নাইটিংগেল মেডিকেল শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
আশুলিয়ার পূর্ব জামগড়ায় নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজে মঙ্গলবার (১৪ জুন) ভোরে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান ফিরোজ জানান, সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেডিকেল কলেজের নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে দুটি মেডিকেল কলেজসহ নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেন। খবর জানার পর থেকে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজের নূর ইমাম মেহেদী নামের এক প্রশাসনিক কমকর্তাকে ও কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ন জামান চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রথম দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেয়। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
অপরদিকে শিক্ষার্থীরাও পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থী ও আশুলিয়া থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। তবে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে শিক্ষর্থীদের। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে প্রায় দুই-তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ন জামান চৌধুরীকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে তালাবদ্ধ গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পুলিশকে বাধা দিতে গেলে শুরু হয় সংঘর্ষ। শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন কাঁচের তৈরি দরজা-জানালায় ভাঙচুর চালায়।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে তিনজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ তিন শিক্ষার্থী, আহত পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্যদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
সানবিডি/ঢাকা/আহো