১০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ওয়ালটন ফ্রিজের কম্প্রেসারে
প্রকাশ: ২০১৬-০৬-১৫ ১৮:৪২:৩০

সম্প্রতি ওয়ালটন ফ্রিজে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের লেটেস্ট প্রযুক্তি ‘ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার’। নতুন প্রযুক্তির কম্প্রেসার ব্যবহারের ফলে ব্যাপকভিত্তিক বিদ্যুত সাশ্রয়ের পাশাপাশি ফ্রিজের কম্প্রেসার হয়েছে আরো বেশি টেকসই। আর তাই ফ্রিজের কম্প্রেসারের ১০ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ঘোষণা করেছে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন।
ওয়ালটন সূত্র জানিয়েছে, আগে ওয়ালটন ফ্রিজের কম্প্রেসারে ৮ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি ছিল। ইনর্ভাটার প্রযুক্তির কম্প্রেসার ব্যবহারের পর নতুন এই কম্প্রেসারের ক্ষেত্রে আরো দুই বছর বাড়িয়ে এখন দশ বছর করা হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি দশ বছরের হলেও নির্বিঘ্নে বছরের পর বছর চলবে ইনভার্টার কম্প্রেসার।
ফ্রিজের ভেতরে খাবারের পরিমান এবং রুমের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসারের গতি কমে, বাড়ে। ফলে বিদ্যুত সাশ্রয় করে বহুলাংশে। ইনভার্টার কম্প্রেসারের মোটর চালু করতে সাধারন কম্প্রেসারের তুলনায় ৮ থেকে ১০ গুন কম বিদ্যুত লাগে। ইনভার্টারে নয়েস বা শব্দ কম হয়। বিদ্যুত বিভ্রাটে কম্প্রেসারের ক্ষতি হয় না। সর্বোপরি ওয়ালটন ফ্রিজে ব্যবহার করা হয় ন্যানো হেল্থকেয়ার টেকনোলজী। যা খাবারকে সতেজ এবং এর প্রাকৃতিক গুণাগুন অক্ষুন্ন রাখে। ফলে সৌখিন এবং সচেতন গ্রাহকদের পছন্দ ইনভার্টার কম্প্রেসারযুক্ত ফ্রিজ। ফলে জাতীয় স্বার্থে ব্যাপক বিদ্যুত সাশ্রয়ী এই কম্প্রেসারযুক্ত ফ্রিজ ব্যবহার করা উচিত।
ব্যাপক বিদ্যুত সাশ্রয়ী ফ্রিজের এই কম্প্রেসার সম্পর্কে বিদ্যুত বিভাগের থিংক ট্যাঙ্ক পাওয়ার সেলের পরিচালক মোঃ আব্দুর রউফ মিঞা বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সাধারণ জনগণকে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য যেমন ইনভার্টার প্রযুক্তির পণ্য, এলইডি বাল্ব ও লাইট, সিএফএল বাল্ব ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ওয়ালটন গ্রুপের সোর্সিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আম্বিয়া জানান, ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজগুলো সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এছাড়াও, এই প্রযুক্তির কম্প্রেসারের স্থায়ীত্বও তুলনামূলক অনেক বেশি। গ্রাহকরা ব্যবহারবিধি সঠিকভাবে মেনে চললে ২০ থেকে ৩০ বছরেও ওয়ালটনের কম্প্রেসারে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তিনি যোগ করেন, কম্প্রেসারের সিস্টেম যত নিখুঁত এবং সুক্ষ্ম (এ্যাকুইরেট) হবে এটা তত ভালো সার্ভিস দেবে। আর তাই কম্প্রেসারের এ্যাকুইরেসি এবং কুলিং সিস্টেম-এ ওয়ালটন আরো বেশি পারফেকশন নিয়ে এসেছে। ওয়ালটনের এই ইনভার্টার কম্প্রেসার বিএবি (বাংলাদেশ এ্যাক্সিডিটেশন বোর্ড) কর্তৃক অনুমোদিত আন্তর্জাতিকমানের নাসদাৎ ইউনিভার্সাল ল্যাব টেস্টে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তা ফ্রিজে ডুক্ত হচ্ছে।
ওয়ালটনের প্রকৌশলীরা জানান, কম্প্রেসারের বড় ধরনের সমস্যা হলে রিপ্লেসমেন্ট বা নতুন কম্প্রেসার যুক্ত করতে হয়। কিন্তু ওয়ালটনের ক্ষেত্রে সাধারনত এ ধরনের সমস্যা হয় না।
এখন পর্যন্ত ইনভার্টার প্রযুক্তির বেশ কয়েকটি মডেলের নো-ফ্রস্ট ফ্রিজ বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। বাজারজাতকৃত এই ফ্রিজগুলো হচ্ছে ৩২৩ লিটার, ৩৪৮, ৩৮৬, ৩৯৬, ৪৩০, ৫১২, ৫২৬ ও ৫৮৫ লিটার ধারণক্ষমতার। এর মধ্যে তিন দরজা বিশিষ্ট ৫২৬ লিটারের নো-ফ্রস্ট ফ্রিজটি ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির কয়েকটি মডেলের নো-ফ্রস্ট ফ্রিজ বাজারে ছাড়া হবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
ফ্রিজের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর আনিসুর রহমান মল্লিক জানান, ফ্রিজ হ্যান্ডলিং বা পরিবহন ও স্থানান্তরে সাবধানতা অবলম্বন করলে দীর্ঘদিনেও ওয়ালটন কম্প্রেসারের কোনো সমস্যা হয় না। নূন্যতম ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত কাত করা চলে ফ্রিজ। বিশেষ করে ফ্রিজের মাথার দিকটা উপরে রেখেই পরিবহন করা উচিত। কখনো শুইয়ে বা উপরের দিক নিচে রেখে ফ্রিজ পরিবহন করা হলে কম্প্রেসারের সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরিবহনের অন্তত দুই ঘন্টা পর ফ্রিজ চালু করা উচিত।
সানবিডি/ঢাকা/আহো







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













