


সম্প্রতি পশ্চিম তীরে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। রোজার মাসে ইসরাইলের এই পানি সরবরাহ বন্ধের ঘটনাকে ‘পানি যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী রামী হামদাল্লাহ।
গত বুধবার তিনি এক বিবৃতে বলেছেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনের জনগনের ওপর পানি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। তারা চায়না ফিলিস্তিনের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক। তাই তাদের আমাদের জনগনের ওপর এই অন্যায় আচরণ করছে।
ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনগন যেখানে পানির অভাবে হাহাকার করছে সেখানে ইসরালের শরনার্থীরাও বিপুল পরিমাণের পানি অপচয় করছে।
তিনি বলেন, নাবলুস ও জেনিনের বাসিন্দারা সামান্য পানির জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাদের অর্থনৈতিক ভাবে চাপে ফেলতেই ইসরাইল পানি সরবরাহ বন্ধ করার এই কৌশল নিয়েছে। তিনি ইসরাইলরে এই পদক্ষেপকে অমানবিক বলেও উল্লেখ করেছেন।
তবে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেকোরত পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।
মেকোরাত বলছে, পুরো পশ্চিম তীরে পানি তীব্র সংকট চলছে। সেই জন্য পানি সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে। কিন্তু একপাক্ষিক ভাবে শুধু ফিলিস্তিনের জনগনের জন্য এটি করা হয়নি। তবে এর আগে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি মেকোরাত।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম তীরের নাবলুস ও জেনিনের কোনো কোনো এলাকায় গত ৪০ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় পানি কোম্পানি মেকোরত।
এর ফলে পবিত্র রমজান মাসে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পরেছে পশ্চিম তীরের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। এছাড়া এই রমজানে জেনিন শহরের প্রায় ৪০,০০০ বাসিন্দার বেশিরভাগই কোনোনা কোনো ভাবে পানি সংকটের মুখে পরেছেন।
ওই এলাকার পরিবারগুলোকে দিনে গড়ে ১ লিটার , দুই লিটার বা সর্বোচ্চ ১০ লিটার পানি দিয়ে সমস্ত কাজ সারতে হচ্ছে। রোজার মাসের ওই এলাকার মানুষগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে এখন সেখানে পানি রেশনিং করা হচ্ছে।
অথচ, জাতিসংঘের তথ্যমতে গড় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ওই এলাকায় প্রতি একজন মানুষের জন্য কমপক্ষে সাড়ে ৭ লিটার সুপেয় পানির প্রয়োজন।
কিন্তু ১৯৬৭ সালের পর থেকে ইসরাইল ওই এলাকায় পানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রন করছে। প্রয়োজনের অর্ধেক পানিও সরবরাহ করছে না।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস