আসালঙ্কার শতকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার
স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশ: ২০২৩-১১-০৬ ১৮:২৭:৩৭

বিশ্বকাপ থকে বাংলাদেশের বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন টাইগারদের লড়াই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়ার। সে লক্ষেই দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়ছে টাইগারদের। ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ব্যাটিং উইকেটে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে শুরুতেই অবাক করে দেন টাইগার দলপতি সাকিব। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে অন্য এক ঘটনা। ‘টাইমড আউট’ নামে অদ্ভূত এক আউট হয়েছেন লঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস।
রোববার (৬ নভেম্বর) দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। আগে ব্যাটিং পেয়ে নির্ধারিত ৪৯.৩ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান করে শ্রীলঙ্কা।
এদিন ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। শরিফুল ইসলামের বলে দুর্দান্ত এক ডাইভে কুশল পেরেরার (৪) ক্যাচ ধরেন মুশফিকুর রহিম। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দ্রুতই রান তুলছিলেন পাথুম নিশানকা ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। বাধ্য হয়ে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন অধিনায়ক সাকিব। চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা তানজিম সাকিবের হাতে বল তুলে দেন তিনি।
১২তম ওভারে নিজেই বল হাতে তুলে নেন অধিনায়ক সাকিব। তাতেই বাজিমাত। ওভারের তৃতীয় বলে কুশল মেন্ডিসকে শরিফুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। ৩০ বলে ১৯ রান করেন লঙ্কান দলপতি।
মেন্ডিসের বিদায়ের পর আর টেকেননি নিশানকাও। তাকে বোল্ড করে বিশ্বকাপে প্রথম উইকেটের দেখা পান তানজিম সাকিব। এর আগেই বেশ কয়েকবার অল্পের জন্য উইকেট পাননি তানজিম। তার বল ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারিও পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে তার অফ স্টাম্পের একটু বাইরের হঠাৎ লাফিয়ে উঠলে নিশানকার ব্যাটে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। ৩৬ বলে ৮ চারে ৪১ রান করেন তিনি।
নতুন দুই ব্যাটার সাদিরা সামারাবিক্রমা ও চরিথ আশালাঙ্কা আরও একটি জুটি গড়েন। এই জুটিতে ৬৩ রান যোগ করেন তারা। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা এই জুটিও ভাঙেন সাকিব। ৪২ বলে ৪১ রান করে সাকিবের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপরই ঘরে অদ্ভূত ঘটনা। ক্রিজে ভুল হেলমেট নিয়ে এসেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ফিতা ছেঁড়া থাকায় সেই হেলমেট বদলে নতুন একটি হেলমেট নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেটিও খেলায় ব্যবহারের উপযোগী মনে করেননি এই অলরাউন্ডার। সময় ক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ এ সময় আউটের আবেদন জানালে তাকে আউট দেন আম্পায়ার। ম্যাথিউসই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘টাইমড আউট’ হলেন।
এমসিসির আইনের ৪০.১.১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ‘একজন ব্যাটসম্যানের আউট হয়ে যাওয়া বা অবসরের পর যে ব্যাটসম্যান আসবেন, তাকে অথবা অন্য ব্যাটসম্যানকে ৩ মিনিটের মধ্যে বলের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। অন্যথায় যে ব্যাটসম্যান নামছেন, তাকে আউট হতে হবে।’
ম্যাথিউস কোনো বল না খেলেই সাজঘরে ফেরার পর ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৬ বলে ৩৪ রান করেন ডি সিলভা।
এদিন সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আশালাঙ্কা। ওডিআই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। ১০৫ বলে ৬ চার ও ৫ ছয়ে ১০৮ রান করে তানজিম সাকিবের শিকারে পরিণত হন আশালাঙ্কা।
৩১ বলে ৩ চারে ২২ রান করে শরিফুলের বলে আউট হয়েছেন মাহেশ থিকসানা।
বাংলাদেশের পক্ষে সফলতম বোলার তানজিম সাকিব। ১০ ওভারে ৮০ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। সাকিব ১০ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। ২ উইকেট শিকার করেছেন শরিফুলও। বাকি উইকেটটি মিরাজের ঝুলিতে গেছে।
এএ







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












