
“বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের যে ব্যাপক জালিয়াতি করা হয়েছে ভবিষ্যতে তা জাতিকে ভোগাবে।”
আজ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবু বক্কর সিদ্দিক এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, আমরা দাবি করেছিলাম আরো সতকর্তার সাথে ভোক্তাদের আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হোক। কিন্ত সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। এখন একের পর এক জালিয়াতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। লাখ লাখ সিম সাধারণ ব্যবহারকারীদের আঙ্গুলের ছাপ একাধিক বার দিয়ে চুরি করে নিবন্ধন করে নিয়েছে জালিয়াতি চক্র।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “এসব সিম জালিয়াতি চক্র উচ্চ মূল্যে সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রয় করছে বলে আমাদের সংগঠনের তদন্তে উঠে এসেছে। এতে করে কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পর নিরপরাধ সাধারণ মানুষ ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি কেউ জানে না কার আঙ্গুলের ছাপ চুরি করা হয়েছে। তাই আমরা আজ গোটা জাতি জালিয়াত চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি।
তাঁরা বলেন, এ ব্যাপারে বড় কোন ভোগান্তির আগেই সরকারকে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জনসাধারনের যেকোন ধরনের ভোগান্তি বা ছোট-বড় দূর্ঘটনার দায় সরকাকেই নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত চট্টগ্রামে ২১ মে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান ১২০টি রবির সিম নিবন্ধন করে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে জালিয়াত চক্র।
এরপর গতকাল রাজধানীতে এয়ারটেলের প্রায় লক্ষাধিক নিবন্ধিত সিম সহ অপারেটরের দুইজন কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং আজ ময়মনসিংহেও লক্ষাধিক নিবন্ধিত সিম ও ভিওআইপি সরঞ্জাম সহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “আমরা ৩০শে এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষণের রিপোর্ট প্রকাশ করি। সেখানে আমার বলি যে, মোবাইল অপারেটর, ডিলার ও রিটেইলাররা কারসাজি করে ভোক্তারের আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করে অনিবন্ধিত সিম সমূহ নিবন্ধন করে নিচ্ছে। তাই আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করি, মহামান্য হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সমন্বয়ে ভোক্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু আজ অবধি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় একের পর এক জালিয়াতি ঘটে চলেছে। মন্ত্রণালয় থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে, ৯ কোটি, ১০ কোটি, ১২ কোটি সিম নিবন্ধিত হয়েছে। আসলে প্রকৃতপক্ষে কত সংখ্যক নিবন্ধিত হয়েছে এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়।”
সানবিডি/ঢাকা/আহো