
থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাদের মারধর করায় থানায় মামলা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শাজাহানপুর থানার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন একাত্তরের তালিকাভুক্ত এক রাজাকারের নাতি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শেখ হামিদল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
তিনি মতিঝিল এলাকার তালিকাভুক্ত রাজাকার শেখ নুরুল ইসলাম শান্তিবাগির নাতি। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে শেখ হামিদউল্লাহর দাদা ও বাবাসহ তার পরিবারের রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। অন্তরঙ্গভাবে রয়েছে শেখ হামিদউল্লাহসহ তার দাদা ও বাবার ছবি।
এদিকে কমিটি ঘোষণার পর পরই বেপোয়ারা হয়ে উঠেন শেখ হামিদউল্লাহ। এমনকি চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মারামারিও করেছেন। এ ঘটনায় গত ৮ জুন তার বিরুদ্ধে শাহজাহানপুর থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেছেন শাহজাহানপুর থানা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ শেফালী আক্তার।
এছাড়াও তিনি শেখ হামিদউল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং সুফল পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যলায় গত ১৬ জুন আবেদনটি গ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হামিদউল্লাহ কখনও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কোন স্থানে কোন কাজে অংশগ্রহণ করেনি। অথচ হঠাৎ তাকে শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ১৯৮৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে নাজেহালসহ নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করেছেন হামিদউল্লাহ।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাব্বিরের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কারণেই তিনি পদ পেয়েছেন। এর আগে ছাত্রলীগের কোন কমিটি বা কর্মী হিসেবেও তাকে কোনদিন রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শাজাহানপুর ছাত্রলীগের ত্যাগী অনেক নেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, শাহাজানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির দপ্তর সম্পাদক রুবেলের কাছে আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদা না দিলে এলাকায় ঢুকতে এবং ইন্টারনেট ক্যাবলের ব্যবসা করতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। ফলে রুবেল এখন প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে, চলতি মাসের ৮ তারিখ বিকালে শান্তিবাগে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ শেফালি আক্তারসহ তার পরিবারের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় শেখ হামিদ উল্লাহ ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় মারাত্বক জখম হয়ে শেফালি আক্তার ঢাকা মেডিকেল এবং হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শেখ শেফালি আক্তার শাজাহানপুর থানায় ৮ জুন একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর-০৫। মামলা করার পর প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবগঠিত শাজাহানপুর থানার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হামিদ উল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। মারামারির ঘটনাটা পুরোপুরি পারিবারিক সমস্যা থেকেই হয়েছে।
এদিকে, রাজাকার দাদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শেখ নুরুল ইসলাম শান্তিবাগি আমার দাদা নন। আমার দাদার নাম শেখ সেকান্দার আলি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ সেকান্দার আলী হামিদ উল্লাহর চাচাতো দাদা হন।
সানবিডি/ঢাকা/আহো