[caption id="attachment_28861" align="alignright" width="567"]
এইচ আল বান্না। নির্মাতা ও পরিচালক এবং সিইও অর্হনিশ ফিল্ম[/caption]
মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গী বানানো সহজ নয়। কারণ তারা শৈশব থেকেই ইসলাম জেনে বড় হয়। এমন কি ইসলামি ভাব ধারার প্রতিষ্ঠান যারা শিক্ষা সম্প্রসারণ, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানান বিষয়ে কাজ করে বা সম্পৃক্ত থাকে এবং নিয়মিত ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন করে তারা কেউই জঙ্গীবাদ কিংবা সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করে না। কারণ তারা একটা সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে সমাজে ইসলামের জন্য কাজ করছে।
বরং ইংরেজি মাধ্যম ও দেশের প্রাইভেট পড়া-শুনার জায়গা থেকে যারা বেরিয়ে আসে, যাদের ধর্ম সম্পর্কে কোন রকমের জ্ঞান নেই, কি পরিবার থেকে কি সমাজ থেকে। কেউ তাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়নি, তারাই খুব দ্রুত ব্রেইন ওয়াশড হয়ে যায়। তাদের কাছেই কোরআন পড়া আর হিজাব পড়াই ইসলাম। আর বন্দুকের নল দিয়ে সমাজে ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার নামই কেবল জিহাদ।
এইসব ব্রেইনলেস এম্পটি হেডেড খুউল ডুডেরা নিজেদের জীবনের নানান ফ্রাষ্ট্রেশন এবং ভুলের কারণে যখন বিপর্যস্ত, তখন এক্সট্রিম গোষ্ঠী তাদের এক যাদুকরী ইসলামের সবক দেয়। এরপর তাদের শরীরে আসে অন্যরকম জজবা। ঠিক নতুন মুসলমান হওয়ার মত।
কিন্তু প্রশ্ন হল দেশের মাটি থেকে কে তাদেরকে মাত্র কয়েকমাস আগে নিখোঁজ করল? কিভাবে করল? কিডন্যাপ না ব্ল্যাকমেইলিং? কারা এই উরাধুরা, স্টাইলিশ বাচ্চা ছেলেদের এভাবে ভয়ংকর খুনী বানালো?
নাগরিক, চোখ কান সজাগ রাখো। সন্তানদের ভালবাসায় আগলে রাখো। মানবতার সবক দাও অধঃস্তনদের। ধর্মের গভীর জ্ঞানে আলোকিত কর।
সকল প্রাণই মূল্যবান ও সম্মানিত হবার দাবী রাখে। ইসলামের পক্ষে লিখতে গিয়ে কেউ যদি কাউকে তুই তোকারি করেন, নাম বদলাতে বলেন, বাম মা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কাফের মুশরিক নাস্তিক বলে অসম্মান করেন এবং ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষদের গালাগালি করেন তাহলে বুঝা যাবে মানসিক ভাবে আপনিও অসুস্থ, আপনিও ভেতরে ভেতরে একজন জঙ্গি। আপনার ও চিকিৎসা দরকার।
আসলে ইসলাম সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানও আপনার নেই, থাকলেও সেটা অন্ধ আবেগের তলে চাঁপা পরে গেছে। কি মাদ্রাসা আর কি ইউনিভার্সিটি এই ধরণের সংকীর্ণমনা মানসিকতার মানুষ সবখানেই আছে। আপনি হয়ত সুযোগ পেলে মানুষ হত্যা করবেন না, কিংবা আপনাকে দিয়ে সমাজের বড় কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু অন্য মাত্রায় সেই ক্ষতিটি আপনি নিজেই করছেন।
এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে জঙ্গি উৎপাদনের অন্যতম যায়গা। এখানে যে পরিমাণ ঘৃণার চাষ হয় তা বাস্তবে হওয়া খুব কঠিন। একজন আরেকজনকে না জেনে না চিনে যা ইচ্ছা তাই বলছে, কমেন্ট করার অবারিত স্বাধীনতায় অন্ধ হয়ে যাকে যখন যেভাবে ইচ্ছা কমেন্ট করছে। এই অবারিত স্বাধীনতা ধ্বংস ডেকে আনছে।
একটা জরুরী বিষয় হচ্ছে- জঙ্গিরা কিন্তু ঘোষণা দিয়ে বলছে তারা জঙ্গি, এবং এতে কোনরকম রাখঢাক নেই। কিন্তু যেসব আবেগী ঈমানী জজবার মানুষেরা জঙ্গি বিরোধী হয়েও জঙ্গি হয়ে উঠছেন কথায়, এবং ভার্চুয়াল পার্সোনালিটিতে তারা কিন্তু হিপোক্রেট। তারা একই সাথে দুটো স্টাণ্ডার্ড ধারণ করছে।
আর হ্যাঁ, মাদ্রাসা থেকে জঙ্গি বানানো সহজ নয়, কিন্তু জঙ্গি তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখছে রাষ্ট্র। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, সৌশাল আনরেষ্ট এবং ইনজাষ্টিস মানুষকে খুব দ্রুত ডেস্পারেট করে দেয়। সমাজে জাস্টিস কায়েম না থাকলে আরো ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
শেষ করব একটা প্রশ্ন দিয়ে। এতদিন কত শত ২০/২২টা লাশ দেশের মানচিত্রের এখানে ওখানে পরেছিল। কিছু ক্ষমতাসীনরা মেরেছে, কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেরেছে, আর কিছু ভোটের ভয়াল সহিংসতায়। আমরা কি এভাবে প্রশ্ন তুলেছি? লাইভ দেখেছি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনেছি? উদ্বিগ্ন হয়ে টেলিভিশন আর সংবাদপত্রে চোখ রেখেছি? রাখিনাই, কারণ ঐ প্রাণগুলো তো ছিল ছাগলের প্রাণ, ওদেরকে যাষ্ট রাজনৈতিক প্রয়োজনে বলি দেয়া হয়েছে। সেই মানুষগুলো সব ধইঞ্চা আর তাঁদেরকে ছাপিয়ে এই প্রাণগুলো দামী হয়ে উঠেছে।
নিব্রাসের ফেইসবুকে নিখোঁজ হওয়ার আগে একটা পোষ্ট ছিল... All life metters. আজ যদি বলি স্বদেশের বুকে প্রতিদিন খুন হওয়া মানুষের রক্তগুলোই সন্ত্রাসের জন্য জমিনকে একটু একটু করে উর্বর করছে তাহলে কি এটা অস্বীকার করার সুযোগ থাকবে?
যার কাছে সকল প্রাণী মূল্যবান ছিল সে কি করে সন্ত্রাসী হয়ে সেই সকল প্রাণকে হত্যা করল? আসলে সে এটা মুখে বলেছে, অন্তর থেকেও হয়ত সামান্য বিশ্বাস ছিল। কিন্তু সামাজিক অস্থিরতা ও জঙ্গিবাদের ভয়াল গ্রাস থেকে সে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনি। তেমনি- এই যে আপনি, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি। আপনি মুখে বলছেন ঠিকই- কিন্তু অন্তরে কতটুকু লালন করছেন ইসলামের সুমহান আদর্শ? না কি সামাজিক অন্যায়ের চলমান স্রোতে আপনিও খড়কুটো। সূত্র: এইচ আল বান্নার ফেসবুক
সানবিডি/ঢাকা/এসএস