ওরা এক এক করে খুন করছে: মারা যাওয়ার আগে তারিশির ফোন

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-০৩ ১৫:০২:৪১


Tarishi-Jainতারিশি জৈন। ১৯ বছরের তরুণী। ভারতের উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের সঞ্জীব জৈনের মেয়ে। সঞ্জীব গত ১৫-২০ বছর ধরে ঢাকায় কাপড়ে ব্যবসা করছেন। তারা এখন ঢাকাতেই থাকেন। তারিশি পড়তেন ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে। পরে তিনি পড়তে যান বার্কলের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সম্প্রতি তিনি পরিবারের সাথে সময় কাটাতে এসেছিলেন ঢাকায়। গত পরশু শুক্রবার বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে যান গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে।

সেখান থেকে আর তিনি ফিরতে পারেন নি। ফিরেছে তার লাশ। সন্ত্রাসীরা জিম্মি করার কিছু সময় পরেই অন্যদের সাথে তাকেও হত্যা করে। তবে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে তার বাবাকে ফোন করেছিলেন।

মারা যাওয়ার আগে এই তরুণী বাবার সাথে কী কী কথা বলেছিলেন তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তারিশি ও তার বন্ধুরা রেস্টুরেন্টে ঢোকার কিছু সময় পরেই রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে জিম্মি ঘটনার জানাজানি হলে বিপদ আঁচ করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আত্মীয়রা। তারিশি কোথায়, কী অবস্থায় আছেন জানতে চেষ্টা করতে থাকেন। তখনই তারিশির ফোন থেকে একটি কল আসে সঞ্জীবের নম্বরে।

সঞ্জীব জানান, তারিশি ও তার বন্ধুরা বাথ রুমে ঢুকে তাকে কল করেছিলো। সে সময় তারিশি তার বন্ধু ফারাজ আয়ান ও অবন্তি কবিরের সাথে ছিলো। সঞ্জীব তখন বাইরে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান।

তারিশি সঞ্জীবকে বলেন, ‘বাবা, রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এখানে তারা সকলেই হত্যা করছে। ’

বাবা তাকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভীত ও উদ্বিগ্ন তারিশি কান্নায় ভেঙ্গে পরে জানায়, সন্ত্রাসীরা একে একে সকলকে খুন করছে

তিনি বাবাকে বলেন, ‘বাবা, আমি জানিনা জীবিত বাইরে আসতে পারবো কিনা?

তারিশি জীবিত ফিরতে পারেননি। আর ১৯ জন বিদেশি নাগরিকের মতো তার ভাগ্যে জুটেছে করুণ মৃত্যু। শনিবার ভোররাত ৩টা নাগাদ মেয়ের হত্যার খবর পান বাবা সঞ্জীব জৈন।

তারিশির চাচাতো ভাই শিরীষ জৈন টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, তারিশির বাবা-মা ছাড়া আর কোনও আত্মীয়ই এখন বাংলাদেশে নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় এসে তারিশির বাবার  পাশে দাঁড়াতে চান পরিবারের বাকিরা।

শিরীষ জানান,  বাইরে থেকে যখন এই রকম ঘটনার খবর পাওয়া যায়, তখন এতটা মারাত্মক লাগে না। কিন্তু যখন পরিবারকে সরাসরি আঘাত করে তখন সহ্য করা যায় না।’

অর্থনীতির ছাত্রী তারিশির বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি  ইর্ন্টানশিপ নিয়ে পড়তে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ঢাকা থেকে এবার পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটাতে ফিরোজাবাদেও  যাওয়ার কথা ছিল তার।

সানবিডি/ঢাকা/এসএস