“পুলিশ বারবার বিক্ষোভকারীদের হাইওয়ে থেকে সরে যেতে বলছিল, ওই হাইওয়েটাই প্রতিবাদকারীরা বন্ধ করে রেখেছিল। পুলিশ অবশ্য পরে অধিকাংশ প্রতিবাদকারীকেই রাস্তার পাশে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল”, বিবিসিকে এক ইমেইল বার্তায় সেদিনের ঘটনা বলছিলেন আলোকচিত্রী বাখমেন।
“আমিও ছিলাম রাস্তার ধারে, যেখান থেকে প্রতিবাদকারীদের পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ আমার ডান কাঁধের দিক থেকে এ নারীকে রাস্তায় উঠে যেতে দেখলাম। এরপর এক জায়গায় গিয়ে সে দাঁড়িয়ে পড়লো; সে কিছু বলছিল না, একবিন্দু নড়ছিলও না। দেখা যাচ্ছিল পরিস্কারভাবে যে পুলিশ তাকে আটক করতে যাচ্ছে।”
পরে ওই নারীকে আটক করার কথা জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।
ইশার ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছিল অনেকেই। পরে তাদের শঙ্কা দূর করে ইশা ফেইসবুকে লেখেন, “বেঁচে ও নিরাপদে আছি।” “শুভাকাঙ্খীদের সমর্থন ও ভালোবাসাকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি; কিন্তু এটা ঈশ্বরের কাজ। আমি এখন জলযানের মধ্যে আছি।”
বুধবার রাতে মিনেসোটার শহরতলীর সেন্ট পলে পুলিশের গুলিতে ফিলান্ডো ক্যাস্টিল (৩২) হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ডালাসে স্নাইপার রাইফেলের গুলিতে পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন, আহত হন আরও অন্তত ছয়জন।
ইশার ওই শান্ত সৌম্য ঋজু প্রতিবাদের ছবিটি ফেইসবুকে শেয়ার করেছেন অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি; তার মধ্যে আছেন নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজের জ্যেষ্ঠ আদালত প্রতিবেদক শন কিং। ফেইসবুকে কিংয়ের সাড়ে পাঁচ লাখের উপর ‘অনুসরণকারী’ আছেন।
তার পোস্টের নিচে লেখা একটি কমেন্টে লাইক পড়েছে তিন হাজার তিনশ’রও বেশি, যেখানে ছবিটিকে ‘কিংবদন্তী’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, “ইতিহাস এবং আলোকচিত্রের বইগুলোতে এই ছবি স্থান করে নেবে।”
ইশার ছবিটি শেয়ার করা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জন এফ কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টের কেনিয়ান বংশোদ্ভূত অধ্যাপক চেলেস্টাস জুমা। জুমা প্রভাবশালী শত আফ্রিকান নাগরিকের একজন।
ছবিট নিয়ে প্রশংসা জুড়েছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় উপন্যাসিক হ্যারি কুঞ্জরু, বলেছেন ছবির নারীকে দেখে ‘চাপের মধ্যেও প্রসন্ন’ থাকার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
বাখমেন অবশ্য বলছেন, ছবিটি যে এতটা প্রশংসিত হতে পারে তা ভাবতে পারেননি তিনি। তবে কয়েক ঘন্টা পর তার বাবা যখন তাকে ছবিটি নিয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন তখন বুঝতে পারেন ‘এটি অভাবনীয় কাজ হয়েছে’।
“আমি সত্যিই বেশ গর্বিত এমন একটি ছবি তুলতে পেরে যেখানে ব্যাটন রুজে এখন কি হচ্ছে তার পুরো চিত্রটি উঠে এসেছে।”
“ওই নারী পুলিশের প্রতি কোন ধরনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখাননি। এই ছবিটা আসলে এখানকার মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভাষাটাকেই তুলে এনেছে।
“এখানকার মানুষ ক্ষুব্ধ, তাদের মধ্যে অনেক কষ্ট ও বেদনা রয়েছে, কিন্তু তারা প্রতিবাদ হিসেবে সহিংসতার পথ বেছে নেয়নি।” বাখমেন এখনো বাটন রুজেই আছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি, ছবি তুলছেন বিক্ষোভের।
সানবিডি/ঢাকা/আহো