
সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রফতানি আয়। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হাল নাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিগত অর্থবছরে মোট রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৩৩.৫০ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.২ শতাংশ বেশি।
বছর শেষে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯.৭২ শতাংশ। এছাড়া একক মাস হিসেবে শুধু জুনে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬.৭০ শতাংশ।
ইপিবি সূত্র জানায়, রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে ওভেনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ (আয় হয়েছে ১৪.৭৪ বিলিয়ন ডলার)। নিটওয়্যারে আয় এসেছে ১৩.৩৬ বিলিয়ন ডলার (প্রবৃদ্ধির হার ৭.৪৭ শতাংশ)।
হিসাব অনুসারে, ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের মধ্যে ২৮.১০ বিলিয়ন ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর জন্য অবশ্য ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান, অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সে গার্মেন্ট খাতের মান উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচিও ভূমিকা রেখেছে। তবে পদক্ষেপ নিলে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানো সম্ভব।
তৈরি পোশাক ছাড়াও রফতানি আয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি পণ্য, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
এ বিষয়ে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানা বলেন, নানা প্রতিকুলতা সত্ত্বেও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বছর শেষে রফতানিতে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। এভাবে যদি আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয় তাহলে সরকারের রফতানি আয়ের কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ হবে।
এদিকে রফতানিতে ৯.৭২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি অনেক পণ্যে। এর মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট, ফল, চামড়া, উল এবং উল পণ্য, ইলেকট্রিক পণ্য, হিমায়িত মাছ, চিংড়ি, চা, তামাকজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, হ্যান্ডিক্র্যাফট, সিল্ক এবং বাইসাইকেল।
সানবিডি/ঢাকা/আহো