
এবারের ঈদযাত্রায় দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ১২১টি দুর্ঘটনায় মোট ১৮৬ জন নিহত হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে ও পরের এসব দুর্ঘটনায় আরও ৭৪৬ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এবারের ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটি শুরুর দিন ১ জুলাই থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা অর্থাৎ ১২ জুলাই পর্যন্ত মোট ১২ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ১২১টি দুর্ঘটনায় ১৮৬ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আরও ৭৪৬ জন আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে এ দুর্ঘটনাগুলোতে ১০ জন নিখোঁজ হওয়ার খবরও গণমাধ্যমে এসেছে।
প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি জানায়, দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়ির মধ্যে ৪৬ শতাংশ মোটর সাইকেল, ৩২ শতাংশ বাস, ১৮ ভাগ নছিমন-করিমন-ভটভটি এবং ৪ শতাংশ অন্যান্য যানবাহন ছিল। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সিংহভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১২১টি দুর্ঘটনার ৫১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২ শতাংশ খাদে পড়ে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪ শতাংশ, ওভারলোড সংক্রান্ত কারণে ২৩ শতাংশ এবং যানবাহনের ত্রুটি ও চালকের অসচেতনতার কারণে ১০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এসব দুর্ঘটনা রোধে কিছু সুপারিশমালা পেশ করেছে সংগঠনটি। সেগুলোর মধ্যে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, রোড সেফটি অডিট করা, যাত্রী সচেতনতা সৃষ্টি করা, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা অন্যতম।
দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস