
এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ফখরুল।
পাকস্থলিজনিত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিজভীকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সানোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় নেতা। তিনি জাতির যেকোনো সঙ্কটময় মুহূর্তে সামনে এগিয়ে এসেছেন। গুলশান ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে জাতির কঠিন সময়ে এবারও এগিয়ে এসেছেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের যে ভয়াবহতা সেটা জাতির জন্য মারাত্মক হুমকি। এটাকে মোকাবেলা করার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেশের বরেণ্য কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পেশাজীবীরা তাদের মতামত দিয়েছেন। সে মতামতগুলো তিনি (খালেদা জিয়া) শুনেছেন। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ রিজভী প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি বেশ কয়েকদিন যাবৎ গুরুতর অসুস্থ। তাকে দেখতে এবং তার শরীরের খোঁজ-খবর নিতে আমরা এখানে এসেছিলাম। আশা করছি, তিনি খুব দ্রুত সুস্থ্ হয়ে আবার দলের দায়িত্ব পালন করবেন।’
১৯৮৪ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ে রাজশাহী রেলস্টেশনের কাছে গুলিবিদ্ধ হন তৎকালীন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি রুহুল কবির রিজভী। তার পেটে গুলি লাগলে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তার ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি অংশ সংকুচিত (ইনটেস্টিনাল অবস্ট্রাকশন) হয়ে যায়। তখন সেরে উঠলেও পেটে (খাদ্যনালী) সমস্যা থেকেই যায় এবং সেই সমস্যা আজও রয়েছে। ফলে, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম হলেই তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই কারণে গত মঙ্গলবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম-মহাসচিব।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সানবিডি/ঢাকা/এসএস