মৃত্যুর পর অস্ত্রোপচার, বের হল মৃত সন্তান!

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২০ ১৯:২৩:১১


image (2)পরিকাঠামো ছাড়াই কৃত্রিম ভাবে গর্ভধারণ করানোয় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ। আরও অভিযোগ, প্রসূতির মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর অস্ত্রপচার করে মৃত সন্তান প্রসব করানোর।

এই দুই ঘটনার জেরে রীতিমতো বিপাকে জলপাইগুড়ি শহরের একটি নামী নার্সিংহোম। জেলা স্বাস্থ্য দফতর রীতিমতো চার জনের একটি কমিটি গঠন করে নার্সিহোমের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশও। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

নার্সিংহোম সূত্রে জানা গেছে, মৃত মহিলার নাম চন্দ্রাণী সাহা (২৭)। তাঁর বাড়ি গয়েরকাটার তেলিপাড়ায়।

ওই গৃহবধূর স্বামী রাজেশ সাহার অভিযোগ, “স্ত্রীর সন্তান ধারণ নিয়ে সমস্যার জন্যই বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার পর জলপাইগুড়ির ওই নার্সিংহোমে গিয়েছিলাম। সেখানকার চিকিৎসক জানান, টেস্ট টিউবের মাধ্যমে আমার স্ত্রী সন্তান ধারণ করতে পারবেন। সেই অনুযায়ী স্ত্রীর চিকিৎসাও শুরু হয়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই আমার স্ত্রী প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। চিকিৎসককে বললেও বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দেননি। উল্টে ‘সিজার’ করে সন্তান প্রসব করানোর জন্য সোমবার নার্সিহোমে ভর্তি করাতে বলেন। সেই মতো ভর্তিও করাই। কিন্তু খানিকক্ষণের মধ্যেও স্ত্রীর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আমার স্ত্রীকে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরেই তাঁর মৃত্যু হয় ।”

ঘটনা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরে মৃতার পরিজনরা দেহ ফের জলপাইগুড়ির ওই নার্সিংহোমে নিয়ে আসেন। এবং মৃতার দেহে থাকা সন্তানটি প্রসব করানোর জন্য চাপ দেন। তার পর সেই নার্সিংহোমেই অস্ত্রোপচার করে মৃতার দেহ থেকে তার মৃত সন্তানটিও বের করা হয় বলে অভিযোগ।

মৃতার মামি মুক্তি দাস বলেন, “এটা ঘটনা যে আমরাই রাগারাগি করেছিলাম। আর সে জন্যই যে চিকিৎসক আমার ভাগ্নির চিকিৎসা করছিলেন, তিনিই অস্ত্রোপচার করে মৃত সন্তানটিকে বের করে দিলেন।”

এ দিকে ঘটনাটি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও, সূত্র মারফত খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সিএমওএইচ প্রকাশ মৃধার সাফ কথা, জলপাইগুড়ি জেলায় কোনও নার্সিংহোমেই কৃত্রিম ভাবে গর্ভধারণ করানোর পরিকাঠামো নেই। সে জন্য এ ধরনের গর্ভধারণ করানোর অনুমতিও নার্সিংহোমগুলিকে দেওয়া হয়নি। তার পরেও এমন অভিযোগ কেন উঠল, সে জন্যই চার সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি আমরা।

পাশাপাশি জেলা পুলিশও গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে এক প্রসূতির মৃত্যু হল। অথচ তার কয়েক ঘণ্টা বাদে জলপাইগুড়ির একটি নার্সিংহোমে সেই প্রসূতির পেটে অস্ত্রোপচার করে সন্তান বের করা হল। কেন এমন ঘটনা হল, সেটাই আমরা তদন্ত করে দেখছি।”

নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ অবশ্য গোটা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ, সেই প্রদীপকুমার বর্মা বলেন, “সন্তানহীনতার জন্য বছর দেড়েক ধরে ওই মহিলা চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ তবে টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে নয়, বরং আইইউআই বা ইনট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতিতেই আমি তার চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু আচমকা শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমি তাঁকে শিলিগুড়িতে রেফার করি। সেখানে মহিলার মৃত্যু হয় ।”

ওই চিকিৎসকের সাফ কথা, “মৃত্যুর পর ওই মহিলার দেহে অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসবের ঘটনা আমি তো করিইনি, আমার নার্সিংহোমেও হয়নি।”

সানবিডি/ঢাকা/আহো