তুরস্কে চাকরিচ্যুত উপ-গভর্নরের আত্মহত্যা

প্রকাশ: ২০১৬-০৭-২১ ১১:০৫:৩৬


nejmi_akmanব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর চাকরিচ্যুত হওয়ার খবর শুনে আত্মহত্যা করেছেন তুরস্কের একটি জেলার উপ-গভর্নর নেজমি আকমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকমান নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরপত্তারক্ষীর বন্দুক কেড়ে নিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আকমান গত দু’বছর ধরে দেশটির ম্যানিসা প্রদেশের আহমেতলি জেলার উপ-গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তুরস্কের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর তুরস্কের সরকারি দফতর থেকে এ পর্যন্ত ৪৯ হাজার কর্মকর্তা-কমর্চারীকে গুলেনপন্থী ও অভ্যুত্থানে জড়িত রয়েছে সন্দেহে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তদের তালিকায় নিজের নাম আছে জেনেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করছে জেলা পুলিশ। তার দেহরক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত এ গভর্নর তিন সন্তানের জনক ছিলেন।

জাতীয় সংসদের আট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি : জাতীয় সংসদের আট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গুলেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সংসদের দু’জন ভাইস সেক্রেটারি জেনারেলও রয়েছেন।

আংকারায় ফিরেছেন এরদোগান : ব্যর্থ ক্যু’র পর প্রথমবারের মতো রাজধানী আংকারায় ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি রাজধানীতে ফেরেন। অভ্যুত্থানের রাতে তুরস্কের মারমারিস শহর থেকে সরাসরি জন্মশহর ইস্তাম্বুলে আসেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এরপর থেকে এখানেই ছিলেন ইস্তাম্বুলের সাবেক এ মেয়র।

বুধবার সকালে আংকারায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে ক্যু পরবর্তী সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলাদ্রিম, চিফ অব স্টাফ জেনারেল হুলুসি আকার, ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স অর্গানাইজেশনের প্রধান হাকান ফিদান, উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যরা এ বৈঠকে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে আলাদা বৈঠক : সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

এরদোগান সরকারকে জোরালো সমর্থন ওবামার : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এরদোগানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তুরস্কের বেসামরিক সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

দুই নেতা টেলিফোন আলাপকালে ওবামা তুরস্কের নির্বাচিত সরকারের প্রতি তার সমর্থনের কথা জানান বলে নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোশ আর্নেস্ট। তুর্কি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রেস সেন্টারও এক বিবৃতিতে দুই নেতার আলাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আলাপকালে এরদোগানের কাছে ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সন্ত্রাসীকে এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার পতনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কোনো ব্যক্তিকে সমর্থন করে না। এরদোগান সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি শুক্রবারের অভ্যুত্থান চেষ্টা ভণ্ডুল করে সরকারকে রক্ষায় তুরস্কের জনগণের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন ওবামা।

তিনি এ সময় অভ্যুত্থান চেষ্টা তদন্তে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাবও করেন। এরদোগান এ সময় ওবামাকে বলেছেন, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের রীতি অনুযায়ী অভ্যুত্থান চেষ্টার জন্য দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।

ফের গুলেনকে ফেরত দাবি : টেলিফোনে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা তুর্কি ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত দেয়ার ফের দাবি তোলেন এরদোগান। এ বিষয়ে ওবামা দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির আলোকে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। গুলেনকে প্রত্যর্পণ করতে সব নথিপত্র ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানায় প্রেসিডেন্ট দফতর।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা গুলেনের : যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা ফেতুল্লাহ গুলেন তুরস্ক সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাকে তুরস্কের হাতে তুলে না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী গুলেন তার আবেদনে বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য চলমান প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যানের আবেদন জানাই। আবেদনপত্রে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দাবিকে দায়িত্বহীন ও হাস্যকর বলেন এ ধর্মীয় নেতা।

মুখ্য সামরিক প্রশাসকের স্বীকারোক্তি : সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল হুলুসি আকারের মুখ্য সামরিক প্রশাসক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ল্যাবেন্ত তুরকান গুলেন পরিচালিত সংগঠন ফেতুর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। তাকে ক্যু’র সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ।

দুই সেনা অফিসারের পলায়ন : ব্যর্থ ক্যু’র পর গ্রেফতার হওয়া দুই সেনা অফিসার চিকিৎসারত অবস্থায় সামরিক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে। বুধবার সকালে পদাতিক স্টাফ ক্যাপ্টেন সাদিক কে এবং মিলিটারি পুলিশের সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট ইসমাইল ডি পালিয়ে যান বলে জানা যায়।

ইরাক অধ্যুষিত কুর্দিদের এরদোগানকে সমর্থন : ইরাকের কুর্দিশ অঞ্চলের নেতা নেচিরভান বারঝানি এক বিবৃতিতে ক্যু ব্যর্থ হওয়ায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করে এরদোগান সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সিরিয়ান ট্রাইবাল কাউন্সিলও এরদোগান সরকারের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে।