
অযথা ব্যয়, হুলস্থুল ধূমধাম আর সুস্বাদু খাবারের জন্য অনেক বেশি পরিচিত ভারতীয় বিয়ে। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সব বিয়ের আয়োজনেই ব্যান্ড এবং বরযাত্রা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে কৃষিপণ্য উৎপাদনে আর্থিক ক্ষতি এবং কৃষিঋণে জর্জরিত হয়ে প্রতিবছর আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ভারতের অনেক কৃষক।
একদিকে বিয়ের আনন্দ এবং অন্যদিকে হাজারো কৃষকের আত্মহত্যা। ব্রিটিশ বিতারিত হওয়ার প্রায় ৭০ বছর পার হতে চললেও এই চিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি ভারতে।
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিটি বিয়েতে গড়ে ৩ লাখ রুপি থেকে ৫ কোটি রুপি পর্যন্ত ব্যয় করা হয়। এ হিসেবে প্রতি বছর দেশটিতে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে মোট এক লাখ কোটি রুপি খরচ হয়। অন্যদিকে ভারতে কৃষি এবং কৃষকদের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়ে বছরে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি রুপি।
দেশের বিপরীত এই দুই চিত্রকে এক সুতায় বেধেছেন মহারাষ্ট্র রাজ্যের অমরাবতি জেলার নবদম্পতি অভয় দিয়োর এবং প্রীতি কুম্বাহার। ঐশ্বর্যপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল বিবাহ অনুষ্ঠানের প্রথা ভেঙ্গে গত রোববার বিয়ে করেন তারা। তবে বিয়েতে কোনো অর্থ ব্যয় করেননি তারা। খুব সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে করেছেন নাগপুর ইনকাম ট্যাক্স অফিসের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অভয় দিয়োর এবং মুম্বাইয়ের আইডিবিআই ব্যাংকের সহকারী ম্যানেজার প্রীতি কুম্বহার।
এই নবদম্পতির বরাত দিয়ে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের বিয়েতে অতি আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান, হুলস্থুল ধূমধাম আর সুস্বাদু খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অমরাবতির প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, চাকরি জীবনের শুরু থেকে বিয়েতে খরচের জন্য অর্থ জমিয়েছেন অভয় দিয়োর এবং প্রীতি কুম্বহার। বিয়েতের খরচ বাবদ ২ লাখ রুপি জমালেও বিয়েতে এই অর্থ ব্যয় না করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর পরিবর্তে তাদের জমাকৃত ২ লাখ রুপি অমরাবতির প্রান্তিক কৃষদের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন এই দম্পতি।

প্রতিবছর আত্মহত্যা করতে থাকা কৃষকদের মধ্য থেকে ১০ জনকে ২০ হাজার রুপি করে দিয়েছেন অভয় ও প্রীতি। একইসঙ্গে অমরাবতির ৫টি লাইব্রেরিতে ৫২ হাজার রুপি মূল্যের বইও দিয়েছেন তারা।
অভয় দিয়োর বলেন, গত মার্চ মাসে একটি প্রশিক্ষণের সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাই। ওই অনুষ্ঠানে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। সেই ভাষণ শোনার পর আমি এমন কিছু করার চিন্তায় ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমি বিয়ের অর্থ কৃষকদের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তা আমার স্ত্রী প্রীতিকে জানাই। তার চিন্তা-ভাবনাও মহৎ। আমি আসলেই সৌভাগ্যবানদের একজন।
নাগপুর ইনকাম ট্যাক্স অফিসের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অভয় দিয়োর বলেন, আমার শ্বশুর বাড়ির মানুষরাও আমাদের এই সিদ্ধান্তে ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছেন। দুস্থ কৃষকদের খুঁজে বের করতে সহযোগিতাও করেছেন তারা।