

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দুই নম্বর গেট পেরোতেই হঠাৎ পাশে এসে দাঁড়ায় গাড়িটা। চোখ ফেরাতেই দেখা মেলে সাব্বির রহমানের। মিষ্টি হেসে দ্রুত ছোটেন জিমনেশিয়ামে। শনিবারে সাধারণত ছুটি থাকে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পের খেলোয়াড়দের। কিন্তু কাল ছুটির দিনেও সাব্বির এসেছেন ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে।
জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড় এখন ফিটনেস নিয়ে সচেতন। সাব্বির যেন একটু বেশিই। এতে দারুণ ফলও পান তিনি। জাতীয় দলের কন্ডিশন ক্যাম্পের প্রথম দিনে ব্লিপ টেস্টে যেখানে ১০ করলেই যথেষ্ট মনে করা হয়, সেখানে সাব্বির এবার করেছেন সর্বোচ্চ ১২.৬! অনেক দিন ধরেই ব্লিপ টেস্টে সর্বোচ্চ স্কোর পাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের এই ‘টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ’।
ব্লিপ টেস্টে সাব্বিরের ভালো করার রহস্য কী? ২৩ ওয়ানডে ও ২৬ টি-টোয়েন্টি খেলা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের মুখে হাসি, ‘ব্লিপ টেস্টে আমার আশপাশে চার-পাঁচজন আছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। আসলে শারীরিকভাবে ও রানিংয়ে আপনি যত শক্ত হবেন, এই টেস্টে তত ভালো করতে পারবেন।
ব্লিপ টেস্টে সবারই কষ্ট হয়। এই কষ্টটা অনেকে করতে পারে না। একটা পর্যায়ে দুর্বল হয়ে যায়। আমি মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করি। তা ছাড়া ব্লিপ টেস্টের আগে রানিং করাটাও অনেক কাজে দেয়।’
অনেক খেলোয়াড় ছুটিতে বাড়ি গেলে জিম-রানিং থেকে খানিকটা দূরে থাকেন। সে ক্ষেত্রে সাব্বির ব্যতিক্রম। গত ঈদের ছুটিতেও তিনি নিয়মিত করেছেন ফিটনেসের কাজ। ‘রাজশাহীতে পদ্মার চরে আমরা ফুটবল খেলি, রানিং করি। এটা ভীষণ কাজে দেয়। অনেকেই দেখা যায়, সরাসরি কন্ডিশনিং ক্যাম্পে চলে আসে। তবে আমি ছুটিতে ফিটনেস নিয়ে কাজ করি’—বাড়িতে সাব্বিরের কর্মপরিকল্পনা এমনই।
ফিটনেস ঠিক রাখতে খাওয়াদাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাব্বিরের খাওয়ার রুটিন সাদামাটা হলেও অবশ্যই সেটি স্বাস্থ্যসম্মত, ‘খাবারের খুব একটা বাছাবাছি করি না। সবই খাই। তবে জিম-রানিং করে সেটা বার্ন (ঘাম ঝরানো) করি। শরীরে মেদ জমতে দিই না।
’
একজন খেলোয়াড়ের স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে ফিট থাকা সব সময়ই জরুরি। শক্তি বাড়াতে জিমে দিতে হয় বাড়তি মনোযোগ। সাব্বির এসব জানেন বলেই তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকে ফিটনেস। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত চোটে পড়েননি তিনি। চোটমুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এভাবে জাতীয় দলে খেলার দৃষ্টান্ত দেশের ক্রিকেটে কমই আছে। বিসিবির ট্রেনার ইফতেখারুল ইসলাম সাব্বিরকে তাই বিরাট সনদই দিচ্ছেন, ‘ফিটনেস নিয়ে ও ভীষণ পরিশ্রম করে। ছুটির দিনে কিংবা অবসরেও নিয়মিত জিম-রানিং করে। সাব্বির হচ্ছে জাতীয় দলের সুপারম্যান!’
সানবিডি/ঢাকা/মেহেদী্/এসএস