
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে কটুক্তির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫৭ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক রাবির আইন বিভাগের প্রভাষক শিবলী ইসলাম।
সভা শেষে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিন্ডিকেট সদস্য এ কথা জানান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর সায়েন উদ্দিনকে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড.ফয়জার রহমান ও সিন্ডিকেট সদস্য এ্যাডভোকেট ইব্রাহিমকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের ওই সদস্য আরো জানান, ওই শিক্ষক আইন মন্ত্রী আনিসুল হককে নিয়ে প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ফেসবুকে কটুক্তিকর মন্তব্য করেন। আইন মন্ত্রনালয় মন্তব্যটিকে জঙ্গিবাদে উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে রাবি প্রশাসনসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে আভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে।
তিনি বলেন, এই মন্তব্য ২০০৬ সালের তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়কে ওই শিক্ষকের বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় সকল সদস্যের সম্মতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার এবং এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসন সব নিয়মকানুন মেনেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে কী ধরনের শfস্তি হতে পারে তা তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করবে।
এ বিষয়ে শিবলী ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রভাষক মো. শিবলী ইসলাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে আইন বিভাগের শিক্ষক হয়েছেন। বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার সময় ওই শিক্ষকের মাস্টার্স (এলএলএম ডিগ্রী) পরীক্ষা শেষ হয়নি। তার অনার্সে প্রথম শ্রেণি ছিল না। তাই তিনি ওই নিয়োগে শিক্ষক হওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিন্তু আইন বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বে থাকা (২/১ দিনের জন্য) জামায়াতপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ওই শিক্ষকের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে মর্মে একটি প্রশংসাপত্র দিয়েছিলেন।
ওই সময়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এম আনিসুর রহমান বিশেষ কাজে বাহিরে ছিলেন। তার স্থানে আবদুল হান্নান দায়িত্বে ছিলেন। শিবলী ইসলামকে অবৈধভাবে চাকুরি দেওয়ার কারণে ওই সময়ের চাকরিপ্রার্থী জহুরুল ইসলাম একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলা এখনও চলছে। শিবলী ইসলামের চাকরি এখনও স্থায়ী বা তার কোনো পদোন্নতি ও হয়নি।
সানবিডি/ঢাকা/হৃদয়/আহো