
সাম্প্রতিক জঙ্গি উত্থানে ব্যাচেলরদের আবাসনে বাড়িভাড়া পেতে ভোগান্তি, বাড়িওয়ালাদের নির্যাতন ও পুলিশী হয়রানির প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভাড়াটিয়া পরিষদ।
আজ (বুধবার) রাজধানীর সেগুনবাগিচা ২৩/২ তোপখানা রোডস্থ নির্মলসেন মিলনায়তনে সকাল ১১:০০ টায় উক্ত সংবাদ সম্মেলসের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১১ আগষ্ট ২০১৬ রাত ৮ হইতে থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ব্যাচেলররা আবাসনে ভোগান্তির প্রতিবাদে একটি বালিশসহ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে “প্রতীকী প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচি” পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি মোঃ বাহারানে সুলমান বাহার।
এতে সংগঠনের সভাপতি মোঃ বাহারানে সুলমান বাহার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অবগত আছেন সম্প্রতি দেশে জঙ্গি উত্থানের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ সারদেশের ব্যাচেলরদের উপর নেমে এসেছে সীমাহীন ভোগান্তি। একদিকে পেশাজীবি-শ্রমজীবি-শিক্ষার্থী ব্যাচেলরদের নতুন বাসা পেতে ভোগান্তি, পুরোনো বাসায় বাড়িওয়ালাদের অত্যাচার ও সামনের মাস থেকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ এবং নানা রকম পুলিশী হয়রানিতে ব্যাচেলররা আজ দিশেহারা। আমরা ভাড়াটিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে গুলশান-শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে হামলায় নিরীহ হতাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
তিনি দাবি জানান, জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে হলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন এর ১৪ ধারা মতে প্রতিটি ভাড়াটিয়ার সাথে চুক্তি সম্পাদন করে বাড়ি ভাড়া প্রদান করতে হবে। এতে সরকার শতশত কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। আয়কর বিভাগও ভাড়ার সঠিক তথ্য পাবে। এটি না করে শুধুমাত্র ভাড়াটিয়ার তথ্য চাওয়া হলে সঠিক তথ্য না পাওয়ার বিদ্যমান।
বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, গত ১লা জুলাই ২০১৬ইং থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গি হামলার কারণে ঢাকা শহর সহ সারাদেশে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের কেন্দ্র করে পুলিশের তল্লাশীসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার চলছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গরীব, দরিদ্র, হত দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত ব্যাচেলররা অর্থনৈতিক নির্যাতন সহ্য করে। সরকারের কোন সহযোগিতা ছাড়াই এরা বসবাস করছে। এদের মধ্যে কেউ আবার শ্রমিক, বেকার, যুবক, শিক্ষার্থী, হকার সহ বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক নারী ও পুরুষ ব্যাচেলর হিসাবে বসবাস করেন। গুটি কয়েক জঙ্গিদের কারণে এই ব্যাচেলর ছেলেমেয়েরা মানুষিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন। সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে বাসায় ফিরে যখন ঘুমাতে যায় ঠিক সেই সময়ে পুলিশের তল্লাশী দরজায় নক করা ও বাড়ীর মালিকদের গুণগুনানী নানান জিজ্ঞাসাবাদ চলছেই। ওরা পারে না ঠিকভাবে ঘুমাতে, ভয়ে আতঙ্কিত থাকে। এতে করে এই ব্যাচেলররা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বাড়ির মালিকরার প্রকাশ্যে প্রকাশিতভাবে বাসা ছাড়ার নোটিশ/নির্দেশ দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৮/০৭/২০১৬ইং তারিখে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মালিকরা নোটিশ দিয়েছেন যে, কোন ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হবে না। এতে করে এই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের জীবন বিপন্ন পথে অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় ১৫ (পনের) লক্ষাধিক ব্যাচেলর শ্রমিক কর্মচারী। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৫ (পাঁচ) লক্ষাধিক, মিডিয়া কর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত রয়েছে প্রায় ৭ (সাত) লক্ষাধিক, দোকানও হোটেল শ্রমিক কর্মচারী রয়েছে প্রায় ৩ (তিন) লক্ষাধিক এবং পরিবহন গাড়ীর চালকসহ অন্যান্য রয়েছে প্রায় ৫ (পাঁচ) লক্ষাধিক, সর্বমোট প্রায় ৩৫ (পয়ত্রিশ) লক্ষাধিক ব্যাচেলর ভাড়াটিয়া শহরে বসবাস করছেন। এই ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের উপর বাড়ির মালিক ও সরকার যে চাপ সৃষ্টি করছে তাতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে।
তিনি আরো জানান, ঢাকার চারপাশে অনেক কষ্ট করে এই ব্যাচেলর ছেলেমেয়েরা বসবাস করছে। গুটি কয়েক জঙ্গির কারনে বাড়ির মালিকদের গ্রেফতার করায় এই ব্যাচেলর ছেলেমেয়েরা খুবই আতঙ্কিত অবস্থায় আছেন। আবার যেখানে ৩০০০ টাকা ভাড়া সেখানে ৪০০০-৫০০০ টাকা দিলে ব্যাচেলর হিসাবে থাকতে পারবে।
তিনি বলেন, আমরা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান করছি, দেশে অনেক এম.পি-মন্ত্রী ও জ্ঞানীগুনী-গণ্যমান্য ব্যক্তিগণও এই শহরে ব্যাচেলর হিসাবে বসবাস করেছেন। আজ তাদের দৃষ্টি আর্কষণ করে বলতে চাই, ব্যাচেলরদের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা আপনাদের আছে। এই ব্যাচেলররা মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানদের গ্রামে রেখে শহরে এসে জীবিকা নির্বাহ ও লেখাপড়ার জন্য ব্যাচেলর হিসাবে থাকছেন। গ্রাম থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের শহরে উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্যাচেলর হিসাবে অবস্থান করছে। ব্যাচেলর হিসাবে থাকতে না পারলে সামজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে। এমন কি উচ্চ শিক্ষা হারও হ্রাস পাবে এবং দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে যাবে।
সভাপতি ভাড়াটিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে সরকার ও বাড়ির মালিকদের প্রতি ৪ দফা দাবি পেশ করেন।
১. বর্তমান শহরে বসবাসরত ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের আবাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. ব্যাচেলরদের সরকারিভাবে আবাসনের সুব্যবস্থা করতে হবে।
৩. পুলিশের তল্লাশীর কারণে অন্যায়ভাবে ব্যাচেলরদের হয়রানি, অর্থনৈতিক নির্যাতন ও উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।
৪. প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, হারুন চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষক নেতা সামছুল আলম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত ফাতেমা, কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মোস্তফা, জামাল শিকদার, মোঃ শামীম, আলামিন, শ্রমিক নেত্রী লাভলী ইয়াসমিন, মানবাধিকার কর্মী মোঃ হানিফ, শ্রমিক নেত্রী সুলতানা আক্তার, ফরিদ খান, কবির চৌধুরী তন্ময় প্রমুখ।
সানবিডি/ঢাকা/আহো