
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের প্রাক্তন এমপি সাখাওয়াত হোসেনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অপর সাত আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়ছে।
রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। সাখাওয়াতকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে আদালত বলেছেন, সরকার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে তার দণ্ড কার্যকর করতে পারবে।
রায় পড়ার সময় আসামিদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাখাওয়াত ও বিল্লাল হোসেন কাঠগড়ায় ছিলেন।
এর আগে সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। মোট ৭৬৮ পৃষ্ঠার রায়ের মূল অংশের প্রথমাংশ পাঠ করেন বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম।
রায় ঘোষণার সময় চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সাবিনা ইয়াসমিন মুন্নী, রেজিয়া সুলতানা চমন উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস শুক্কুর খান উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার জন্য আজকের এই দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১৪ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
২০১৫ সালের ১৪ জুন তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগ আনে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ১৬ জুন সাখাওয়াতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এর আগে আদালত আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
২০১২ সালের ১ এপ্রিল থেকে এ মামলায় তদন্ত শুরু করে গত বছরের ১৪ জুন শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান।
১৯৯১ সালে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর-৬ আসন থেকে সাখাওয়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।