

জাকির নায়েকের পিস টিভি গোটা ভারতে নিষিদ্ধ হয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে তা রমরমিয়ে চলছে। একটি ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুযায়ী, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী বহু এলাকাতেই চায়ের দোকান, পানের গুমটি এবং অনথিভুক্ত মাদ্রাসাগুলিতে পিস টিভি চলতে দেখা যাচ্ছে। সৌজন্যে লোকাল কেবল নেটওয়ার্ক।
ইংরেজি সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্কগুলির এই ধরনের কারবার নিয়ে চারটি বড় কেবল অপারেটর সংস্থা– হ্যাথওয়ে, মন্থন, সিসিএন এবং সিটি কেবল প্রতিবাদও জানিয়েছে। কিন্তু তাদের এই প্রতিবাদের থেকেও এই বেআইনি সম্প্রচার অনেক বেশি ভাবাচ্ছে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার মাটিতে জোড়া বিমান হামলার পর জানা গিয়েছিল, মালদহ-মুর্শিদাবাদের মতো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে রমরমিয়ে বিক্রি হয় ওসামা বিন-লাদেনের ভাষণের ক্যাসেট ও সিডি।
শুধু তাই নয়, তখনই জানা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অসংখ্য অনথিভুক্ত মাদ্রাসায় পড়ানো হয় ওসামা বিন-লাদেনের জীবনী। সেখানে পড়ুয়াদের অক্ষরজ্ঞানই হয় এ রকম সব ছড়ার মাধ্যমে, ব-এ বীর মুজাহিদ এগিয়ে চলে। পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই ধরনের কট্টরপন্থী মুসলিম কার্যকলাপ বন্ধে কিছুটা উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সে চেষ্টা যে খুব ফলপ্রসূ হয়নি, ইদানীংকালে খাগড়াগড়ের মতো ঘটনাই তার প্রমান।
এনআইএ-ও স্বীকার করেছে, এখনও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলি কার্যত সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। যে কোনও ধরনের দুষ্কৃতী কার্যকলাপ এখানে আগের মতো এখনও দাপটে চলছে। পেট্র-ডলারের মদতে কট্টরপন্থী মুসলিম জঙ্গিবাদের পাশাপাশি অপরাধ জগতের কারবারে কোনও ভাটা পড়েনি। এই অবস্থায় জাকির নায়েকের পিস টিভির প্রচার সীমান্তবর্তী জেলাগুলির দুরবস্থাকে আরও ঘোরালো করে তুলবে বলেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বাংলাদেশে সেখানকার ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন ছজন জঙ্গি চক্রীকে পাকড়াও করেছে। প্রত্যেকেই বাংলাদেশের সন্ত্রাসাবাদী সংগঠন জামাতুল-মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত। এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুজনের সঙ্গে খাগড়াগড় কাণ্ডের প্রত্যক্ষ যোগ আছে। শুধু তাই নয়, এই চক্রীদের মধ্যে একজন কিছুকাল আগেও নদীয়া জেলায় বহাল তবিয়তে কাটিয়ে গিয়েছিল।