
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আবাসন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক হল আছে আছে মাত্র দুটি। নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে আরো তিনটি হল। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া করা বাসা অথবা মেসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশেও ভালো বাসা না থাকার কারনে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সোনাপুর বা মাইজদি শহরে বাসা ভাড়া করে থাকে। ক্যাম্পাসের বাইরে হওয়ায় সর্বদাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় তাদের।
সাম্প্রতি (৪ ঠাআগস্ট) মাইজদি হরিনারায়নপুরের এক মেসে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হামলা করে অস্ত্র ঠেকিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইলফোন, টাকাসহ প্রায় ২.৫ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় সুধারাম থানায় অভিযোগ করার পরেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নোবিপ্রবির ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা। বাসায় ঢুকে হামলার ঘটনা নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কিছু না। এর আগেও হাউজিং, মাইজদি-বাজার, সোনাপুরের বিভিন্ন মেসেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বাসায় ঢুকে হামলা ছাড়াও প্রায়ই ছিনতাই ও মারধরের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মাসের শুরুতে এই সমস্যা বেশি হয়। মাসের শুরুতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা টিউশনির টাকা পায়, পাশাপাশি মাসের শুরুতেই বাসা থেকে মাসিক খরচের টাকা পাঠায়। ফলে মাসের শুরুতেই অধিকাংশ ছিনতাইর শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোন রকম সহযোগিতা পায় না তারা। ছিনতাইয়ের শিকার নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিশির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “বাড়ি থেকে এত দূরে এসে আমরা এখন জিম্মি, নোবিপ্রবির ছাত্র শুনলেই মারধর করে মোবাইল, টাকা সব নিয়ে যায়। আমদের কথা শোনার মত কেউ নেই”।
গত ১০ই আগস্ট প্রায় রাত ৯।৩০ এ দত্তের হাটে সিএনজিথামিয়ে দুজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সমমূল্যের দুটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইয়ের শিকার শিক্ষার্থী রাসেল বলেন “মাইজদিসিএনজিতেউঠার পর থেকেই ছিনতাইকারীরা আমাদের অনুসরণ করছিল। এর পর দত্তের হাট পার হওয়ার পর তারা আমাদের সিএনজিথামিয়ে আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এ বিষয়ে আমরা সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।”
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর মুশফিকুর রহমান বলেন “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা যতগুলো ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়েছি প্রত্যেকটির ব্যাপারেই নোয়াখালীরপুলিশ প্রশাসনের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া গত ৪ আগস্ট বাসায় ঢুকে হামলার ব্যাপারে মামলাও করা হয়েছে”।
নোয়াখালীসুধারাম থানার ওসিকে সাম্প্রতিক বাসায় ঢুকে ডাকাতি এবং সিএনজিথামিয়ে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন “উভয় ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে, আশা করা যায় অতি সিগরইছিনতাইকারীরা ধরা পরবে”।
সানবিডি/ঢাকা/সাদী/এসএস