
গত বছরের এইচএসসির ফলে যশোর বোর্ডের অবস্থান ছিল সব বোর্ডের নিচে। এবার পাসের হারে আট বোর্ডের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করে সেই যশোর বোর্ড সবাইকে চমকে দিয়েছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও অন্যান্য বছরের মতো এবারও সেরা ঢাকা বোর্ড।
গত বছরের চেয়ে যশোর বোর্ডের পাসের হার এবার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয়েছে ৮৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৪৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যশোর বোর্ডের পাসের হার মূলত সার্বিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাবে ফেলেছে।
গত বছর ৭৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে আট বোর্ডে শীর্ষে ছিল রাজশাহী বোর্ডে। এবার ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৯৩ জন।
এইচএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। এবার আট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। দশ বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এবার সর্বনিম্ন পাশের হার কুমিল্লা বোর্ডে। এ বোর্ডে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
যশোর বোর্ডের এ চমক লাগানো ফলের বিষয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছরের যশোর বোর্ডের ৪৬ পারসেন্ট পাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যশোর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুবই চাপ দেওয়া চেষ্টা করি। এটা একটা বিচ্যুতি হয়ে গেছে আমাদের। এজন্য আমরা বিশেষ জোর দিয়েছিলাম, বিশেষ চেষ্টা নিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলছি পিছিয়ে পড়ার ফলে আমরা যে চাপ দিয়েছে তার ফলে উন্নতি হয়েছে।’
পরে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর একটি বা দু’টি বিষয়ে আমার ফিফটি পার্সেন্ট (অর্ধেক) শিক্ষার্থীর ফলাফলে বিপর্যয় নেমে আসে। এবার গত বছরের ফেল করা ৩৫ হাজার পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা দিয়েছে। গত বছর নাড়া দেওয়ার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, অভিভাবকদের সঙ্গে বসি। এজন্য আমরা যে পিছিয়ে পড়েছিলাম তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এ ফলাফলের পেছনে কোন ধরণের নেতিবাচক প্রশ্ন উঠতে পারে এমন কোন সমস্যা হয়নি। আমি কোন সমস্যা হতে দেইনি। এটা আমি দাবি রাখি। গত বছর আমি তোপের মুখে পড়েছিলাম, মনে করেছিলাম এবার আমি বাহবা দেবে সেটা আমি পাইনি।’
ঢাকার বেশি জিপিএ-৫ পাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সকলের পছন্দের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকায় অবস্থিত। এখানে ভাল ছাত্ররা বেশি, লেখাপড়া ভাল হয়। এখানে শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ বেশি পাওয়া স্বাভাবিক।’
এছাড়া পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৭৩ দশমিক ৫৩, রাজশাহী বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৪০, সিলেট বোর্ডে ৬৮ দশমিক ৫৯, দিনাজপুর বোর্ডে ৭০ দশমিক ৬৪, বরিশাল বোর্ডে ৭০ দশমিক ১৩, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৪ দশমিক ৪৯ ও চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।
অপরদিকে জিপিএ-৫ রাজশাহী বোর্ডে ৬ হাজার ৭৩, দিনাজপুর বোর্ডে ৩ হাজার ৮৯৯, যশোর বোর্ডে ৪ হাজার ৫৮৬, চট্টগ্রাম বোর্ডে ২ হাজার ২৫৩, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৯১২, বরিশাল বোর্ডে ৭৮৭ ও সিলেট বোর্ডে এক হাজার ৩৩০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ঢাকা বোর্ডের অধীনে ডিআইবিএসে (ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ) ৩২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সানবিডি/ঢাকা/আহো