
২৩ নভেম্বরের মধ্যে রামপালের বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ না হলে ২৪ নভেম্বর সারাদেশ থেকে ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। একই সঙ্গে রামপালের বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সকালে ‘রামপাল চুক্তি ছুড়ে ফেলো, সুন্দরবন রক্ষা করো’—এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বাম ধারার বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অবস্থান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, সুজন, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন।
এতে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা প্রমাণ করা হয়েছে। আমাদের এই সংগ্রাম বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে নয়; এই সংগ্রাম সুন্দরবন রক্ষার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমারা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুন্দরবন দুটোই চাই। তাই রাজনীতির পরিবর্তন করে হলেও রামপাল প্রকল্প বন্ধ করা হবে।’
এজন্য বিদ্যুৎ সমস্যার টেকসই সমাধানে জাতীয় কমিটির দেয়া সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, ‘দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থকে রক্ষার জন্য এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এতে নানা উন্নয়নের চিত্র দেখানো হচ্ছে। ভাড়া করা বিশেষজ্ঞরা শোনাচ্ছেন, সুন্দরবন ধ্বংস হবে না।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যখন বুড়িগঙ্গার দুর্গন্ধ দূর করতে পারেন না, খালে পড়ে গেলে শিশু উদ্ধার করতে পারেন না, হাতিরঝিলে নাকে রুমাল চেপে যেতে হয়, তখন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর সুন্দরবন রক্ষা হবে, তা আমরা মানি না।’
কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের মধ্যে এক হাজার ৬০০ মানুষও এ প্রকল্প চায় না। এটা জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। প্রকল্পে যারা জড়িত, তাদের নাম ১০ থেকে ১৫ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।’ পরে শহীদ মিনারের বাঁ পাশে একটি মুক্ত ক্যানভাসের উদ্বোধন করা হয়। এখানে বিভিন্নজন মন্তব্য করেন।