

যুক্তরাজ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমাম ইসলামি চিকিৎসার নামে কালো জাদুর চর্চা করতেন বলে আইএসের দুই সমর্থক মনে করত। আর এ কারণেই তারা ওই ইমামকে হত্যা করে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ম্যানচেস্টারের রচডেলের শিশু পার্কে জালাল উদ্দিন নামের ওই ইমামকে হত্যা করে আইএসের দুই সমর্থক মোহাম্মদ আবদুল কাদির ও মোহাম্মদ হোসেইন সাঈদী।
স্থানীয় মসজিদে ইমামতি শেষে এক বন্ধুর বাসায় রাতের খাবার খেয়ে পায়ে হেঁটে বাড়িতে ফেরার পথে জালাল উদ্দিনকে হত্যা করা হয়।
প্রসিকিউটর পল গ্রিনি জানান, আসামি সাঈদী স্বীকার করেছেন যে, ইমাম জালাল উদ্দিনকে হত্যা করে কাদির এবং হত্যার আগে-পরে সে কাদিরকে সহায়তা করে।
তিনি আরো বলেন, ‘জালাল উদ্দিন রাকিয়া (তাবিজের মাধ্যমে ইসলামি চিকিৎসা) চর্চা করতেন। আইএস এ ধরনের চিকিৎসাকে কালো জাদু চর্চা বলে মনে করে এবং এই ধারণায় বিশ্বাস করে যে, যারা এই ধরনের চিকিৎসা চর্চা করে তাদের কঠিন শাস্তি, এমনকি মৃত্যু প্রাপ্য।’
তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ হোসেন সাঈদী ও মোহাম্মদ আবদুল কাদির আইএসের সমর্থক। তাই তারা এই মতাদর্শে বিশ্বাসী যে, যারা রাকিয়া চর্চা করে তাদের শাস্তি প্রাপ্য। তাই তারা জালাল উদ্দিনকে হত্যা করে।’
সাঈদী ও কাদির, দুজনের বয়সি ২০ এর সামান্য বেশি। তারা হত্যার কয়েক মাস আগে থেকে জালাল উদ্দিনকে তাদের লক্ষ্য পরিণত করেছিল এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সুযোগ বুঝে হাতড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে বলে আদালতকে জানান পল গ্রিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘ডাকাতি করতে গিয়ে জালাল উদ্দিনকে আঘাত করা হয়নি। বরং এটি ছিল পরিকল্পিত হামলা- না হলে শিশু পার্কে হত্যাকারীরা হাতুড়ি নিয়ে যাবে কেন? ঘৃণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ও জালাল উদ্দিনকে শায়েস্তা করতে এবং সন্দেহাতীতভাবে তাকে হত্যা করতে কিংবা গুরুতর চোট পৌঁছাতেই এ হামলা করা হয়।’ উল্লেখ্য, আগামী মাসে এ মামলার বিচারকার্য শেষ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি