
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, এটি সার্বিকভাবে বলা যাবে না। কিছু মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। তবে বড় একটি অংশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ক্ষমতার রাজনীতির হাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জিম্মি হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিনের ‘বৈশ্বিক মতপ্রকাশ প্রতিবেদন-২০২৪’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আর্টিকেল নাইনটিনের আঞ্চলিক পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।
এতে বলা হয়, বৈশ্বিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১২৮তম। ২০২২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩০তম।
বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। মতপ্রকাশে আমরা সংকটময় পরিস্থিতিতে আছি। রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৬ সাল থেকে আমরা অবনতিতে আছি।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের মত রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতেরও অবনমন ঘটেছে। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে মতপ্রকাশের দ্বন্দ্ব এমন একটি জায়গায় চলে এসেছে যে, ক্ষমতার রাজনীতির হাতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জিম্মি হয়ে পড়েছে। সবার জন্য নয়, তবে মতপ্রকাশ এক ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু করেছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ব্যক্তির পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নিবর্তনমূলক আইনের ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান অনুযায়ী টার্গেট করা হচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো সমালোচক বা তথ্যপ্রকাশকারীদের শুভাকাঙ্ক্ষী ভাবার সংস্কৃতি একসময় থাকলেও এখন আর এটি নেই। সমালোচক মাত্রই শত্রু, প্রতিপক্ষ। বার্তা বাহককে ঘায়েল করতে হবে, এমন একটি মানসিকতা বিরাজ করছে।
এসময় দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকটে জনগণ সবচেয়ে বেশি বিপদে। নাগরিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে। রাষ্ট্র যদি জনগণকে ভয় পায় বা সন্দেহ করে তবে তা সবচেয়ে বিপজ্জনক।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান বলেন, ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করলে, ওই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। কিন্তু আমাদের নামে যখন কন্টেন্ট বানায় তখন সরকার তা মনিটর করে না। আমরা নীতিগত অবস্থানের কারণে, যেহেতু সাইবার সিকিউরিটি আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি; সেজন্য ওই আইনে আমরা প্রতিকার নিতে পারি না। এটি আমাদের জন্য বাড়তি বিপদ।
তিনি বলেন, আমাদের কোনো মন্তব্য যখন জনপ্রিয় হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই মন্তব্যের পোস্টে বহু সমালোচনা আসে। আমাদের সম্মানহানি হয়, এমন আইডি থেকে সেসব সমালোচনা করা হয়। যে আইডিগুলো ট্রেস করা যায় না। আমাদের নিরাপত্তা সরকারকে দিতে হবে। গণতন্ত্রের আবহ থাকলে নিয়ন্ত্রণমূলক আইন সরকারকে প্রয়োগ করতে হয় না।
বিএইচ