
দাম বেশি পাওয়ার আশায় বর্তমানে ঈদ বাজার ধরতে সাতক্ষীরার পশু খামার গুলোতে প্রায় ৪০ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। তার মধ্যে গরু মহিষের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫৫০টি আর ছাগল ১১ হাজার ৮১৭টি।
ভারত থেকে গরু আসা কমে যাওয়ায় দেশি গরুর ভালো দাম পাওয়ার আশায় জেলার অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কোরবানির বাজার ধরার জন্য এ পশু পালন করছেন। এ সব গরু পালনকারী ও খামারীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোরবানির পশুহাটে পশু নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে চলছে নানা প্রস্তুতি।
সাতক্ষীরা জেলা পশু সম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, কোরবানীর পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কয়েক হাজার গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। কেউ শখের বশে, কেউ বেকারত্বের অভিশাপ ঘোঁচাতে, কেউ সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে এসব খামার গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় সরকারি পশু চিকিৎকদের সহযোগীতায় এবছর সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ৪০হাজার ৩৬৭টি গরু ও ছাগল কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোরবানীতে দেশী জাতের ও শংকর জাতের গরু চাহিদা বেশি থাকায় খামারীরা এ ধরনের গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করে প্রায় এক বছর ধরে কয়েক হাজার গরু প্রস্তুত করছেন। যার বাজার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
জেলার বড় পশুর হাট পারুলিয়া ও আবাদের হাট। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পশুকে শেষ সময়ের মত আদর আপ্যায়ন করা হচ্ছে। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই নতুন পুরাতন পশুহাটগুলোতে কোরবানীর পশু উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই এলাকার বিভিন্ন পশু হাটে যাওয়ার জন্য নিচ্ছেন প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে স্থানীয় বেপারীরা বাড়িবাড়ি যেয়ে পশু অনুযায়ী দরদাম করে কিনতে শুরু করেছেন। তবে পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় গরুর পালন করতে এবার খরচও হয়েছে অনেক বেশি।
ভারতীয় গরু প্রবেশ না করে আর পশু খাদ্যের দাম কমেযায় তাহলে গরু বা গরুর মাংসের দাম আরো কম হবে বলে মনে করেন এর সাথে সংশ্লিষ্ট খামার মালিক ও বেপারিরা।
গরু খামার করে আবার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে অনেকেই। বেকার যুবক ও দরিদ্ররা খামার করে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে সচ্ছলতা এনেছে সংসারে। সংসারের অভাব ঘুঁচাতে অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন সংগ্রহ করে গো-খামার গড়ে তুলেছে। গো-খামার করে অনেক মহিলা-পুরুষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। খামার গড়তে যে ধরনের টাকার প্রয়োজন সে ধরনের অর্থ নেই অনেকেরই। বিভিন্ন এনজিও ব্যাংক থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে খামার গড়েছেন অনেকে। কিন্তু তাতে সুদের হার একটু বেশি। সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করলে খামারীরা বেশি লাভবান হতে পারে।
গো-খামার করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সাতক্ষীরার বেকার যুবকরাও। ঈদের পূর্ব মুহূর্তে খামারীদের ব্যস্ত সময় কাটচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ার আশা নিয়ে খামারীরা দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। এ জেলার উন্নত মানের পশু একদিকে যেমন দারিদ্রবিমোচনে বেকার সমস্যায় ভূমিকা পালন করছে। অপরদিকে মাংসের চাহিদা পূরণে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।
সানবিডি/ঢাকা/মামুন/আহো