
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ এবং প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের করা মামলায় আজ সোমবার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের উভয়ের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। উভয়ের জন্যই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পুলিশ। যার প্রেক্ষিতেই এ আদেশ দেন আদালত।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোঃ মহিউদ্দিন শেখের রিমান্ড আবেদন থেকে জানা যায়, বাদির পাঁচ বছরের জন্য লীজকৃত মতিঝিল থানাধীন টয়েনবি সার্কুলার রোড হোল্ডিংস্থ ৩৬ শতাংশ জায়গা নিয়ে বিবাদীর সাথে অন্য আরও মোট চারজনের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে প্রায় সময় তাকে খুন-গুমের হুমকি প্রদান করে।
পরে গতকাল রোববার বাদী তার লীজকৃত সম্পত্তি দেখার জন্য তার মামা সহ রওনা দেয়। তখন ১১ টা ৫৫ এর দিকে মতিঝিলের কমলাপুর বাজার রোডস্থ শীত নিবারন বেডিং সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছে। তখনই মো সফিউদ্দিন সহ মোঃ রাফি (৩৪) আলভী (২৪) মহিউদ্দিন শেখ এর দুলা ভাই একটি সাদা প্রাইভেটকারে বাদীর সামনে এসে থামে। তখন সেখানে আগে থেকেই আরো অজ্ঞাতনামা তিন-চারজন জন বিবাদী ওঁৎ পেতে ছিল। তারা বাদীকে সবাই মিলে মুখ চেপে ধরে এলোপাথারী কিল, ঘুষি মারতে মারতে জোরপূর্বক অপহরন করে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে দ্রুত শাপলা চত্ত্বর মুখী হয়ে রওনা দেয়।
তখন বাদীর সাথে থাকা তার মামা বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন গাজী বাদীকে বিবাদীদের হাত হতে রক্ষা করার জন্য তাহার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে বিবাদীদের প্রাইভেটকারের টায়ার লক্ষ করে (চার রাউন্ড) গুলি করে। তখন ঘটনাস্থলে থাকা অজ্ঞাতনামা বিবাদীগন দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে এ মামলার অন্যান্য চারজন বিবাদী দ্রুত গাড়ী চালিয়ে শাপলা চত্ত্বর হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে দিকে যাওয়ার সময় মতিঝিল থানাধীন আপ এন্ড টপ ফেব্রিক্সয়ের বিপরীত পাশে পাকা রাস্তার উপর পুলিশ দেখে বাদী চিল্লাচিল্লি করলে বিবাদীগন বাদীকে সহ গাড়ী ফেলে রেখে চলে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন বাদীকে উদ্ধার করে।
অপরদিকে বিপরীতে পক্ষের গ্রেপ্তারকৃত আসামির রিমান্ড আবেদন থেকে জানা যায়, তিনিসহ আসামি সুরজিত বসু রাজু (৪৯) দেড় বছর আগে একই স্থানে ৩৬ শতাংশ জায়গা বাদীর কাছে বায়না করে। বাদী জমি বায়না করার পর জানতে পারেন উল্লেখিত জমিটি সরকারী ওয়াকফ সম্পত্তি। পরবর্তীতে তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়াকফ প্রসাশকের নিয়ন্ত্রনে মোতওয়ারী কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি নীজ হিসাবে গ্রহন করেন।
বাদী এই সম্পত্তি লীজ নেওয়ার পর হতে এ মামলার আসামি সুরজিত বসু রাজু তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সম্পত্তি দখল করার জন্য আসে এবং উল্লেখিত স্থানে বাদীর কেয়ার টেকার ও ভাড়াটিয়াদের মারধর করে। পরে ওইদিন তার কেয়ারটেকার ফোন দিয়ে জানায় লীজ নেওয়া জায়গায় সুরজিত বসু রাজু (৪৯) সহ অন্যান্য ব্যক্তিগণ ইট, বালু, সিমেন্ট এনেছে কাজ করার জন্য। বাদী উক্ত সংবাদ পেয়ে প্রাইভেটকার দিয়ে নামা মাত্র উপরোক্ত আসামীগণ অস্ত্র-শস্ত্র সহ বাদীকে ধাওয়া দিলে বাদী ভয়ে প্রাইভেটকারে উঠে পড়েন। তখন পলাতক আসামি মোঃ শফিউদ্দিন গাজী (৬৩) নিজ নামে ইস্যুকৃত আগ্নেয়াস্ত্র পিস্তল অবৈধভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে বাদীকে লক্ষ্য করে হত্যার উদ্দেশে গুলি করতে থাকে। তাৎক্ষনিক উক্ত এলাকায় টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উপরোক্ত আসামীগণ পালিয়ে যায়। তখন দায়িত্বরত পুলিশ সেখানে আসামিদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধার করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আবাসন ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ও মো. রাজুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ওই জমিতে এক পক্ষ ভবন নির্মাণের কাজ করছিল। এ নিয়ে অন্যপক্ষ বাধা দিতে গেলে অপহরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। যে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়েছে সেটি রাজুর লাইসেন্স করা বলে জানা গেছে।
বিএইচ