
ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ'র রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেছেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা কাজ করতে চাই। এ খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
সোমবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মোট দেশীয় উৎপাদনের তুলনায় মোট ঋণ ৩৭ শতাংশের বেশি নয়। বাংলাদেশের যে অবস্থা সেটিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সন্তুষ্ট এবং তারা বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কখনই তার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি। আর এটি খুবই চমকপ্রদ বিষয়। এজন্য ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।
চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) এবং ইইউ’র গ্লোবাল গেটওয়ে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিআরআই থেকে ইইউ’র গ্লোবাল গেটওয়ের অফার ভিন্ন। কারণ ইইউ শুধু টাকা দিচ্ছে না, প্রযুক্তি হস্তান্তর করছে। কারণ, আমাদের লক্ষ্য কানেক্টিভিটি এবং গুণগত মানের প্রযুক্তি হস্তান্তর।
তিনি বলেন, ১০ বছরের আগের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশকে উন্নত করার বিষয়ে সরকারের কাজ দৃশ্যমান। বর্তমান বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো, বিশেষ করে আইটি ও মেডিকেলসহ বিভিন্ন খাতে উন্নতি করছে। বাংলাদেশ নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী।
চার্লস হোয়াইটলি বলেন, এলডিসি পরবর্তী যেসব ক্ষেত্রে উন্নতি করার আন্তর্জাতিক দাবি ছিল তা ভালোভাবেই বাংলাদেশ মানিয়ে নিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করা। আমরা সবাই এই সংকট মোকাবিলায় সঙ্গী।
জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ৮ থেকে ৯ বছর আগে হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। তারপর থেকে বাংলাদেশ জঙ্গি ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবসময় পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিক্যাব প্রেসিডেন্ট নূরুল ইসলাম হাসিব ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপু।
বিএইচ