বিশ্বজিতদের বুঝি স্বপ্ন দেখতে মানা
আপডেট: ২০১৭-১১-১৮ ১৪:৫১:২১

বিশ্বজিত – নাম টা কতই না অর্থবহ। বাবা মা অনেক সপ্ন নিয়ে ছেলের নাম রেখেছিল বিশ্বজিত এই ভেবে যে ছেলে একদিন কর্মের মাধ্যমে বিশ্ব জয় করবে।আপন আলোয় উদ্ভাসিত করবে নিজেকে।টানাটানির সংসারের দৈনটা কিছু টা কমবে।তাইতো সে কারিগরি শিক্ষা নিয়েছিল টেইলারিং এর উপর।নিজের সাধ্যের মধ্যে অর্জিত শিক্ষাই ছিল জীবনের চলার পথের পাথেয়। দুই মুঠো ভাত আর মোটা কাপড়ে লজ্জা নিবারনের চেষ্টাই বিশ্বজিতকে নিয়ে এসেছিল এই ইট পাথরের শহরে। যেখানে মানুষ নামের মানুষ আছে, মনুষ্যত্ব বা মানবতা নাই।
ছোটট সপ্নের বড় পরিপুরনতা হয়ত অজর্ন হত।কিন্তু বাদ সাধল ওর ক্রিকেট খেলা দেখার আনন্দ। ও ততো আবার নিচু জাতের মানে গরিবের জাত তার উপর সংখ্যালঘু । নিচু জাতের আবার কিসের আনন্দ। বাংলাদেশ জিতলেই কি আনন্দ করতে হবে?!! এই দেশ কি ওর নাকি ?!! আনন্দ করার অধিকার কি ওর আছে? কে দিয়েছে তাকে এই অধিকার। রাষ্ট্র হয়তো বিশ্বজিতদের সেই অধিকারটুকু দেয়ইনি। বাংলাদেশের জয় নিয়ে আনন্দ করতে গিয়েই তো বেঘোরে জানটা গেল।
ধরেই নিলাম বিশ্বজিত অন্য পক্ষের সমর্থক ছিল। মতাদর্শ ভিন্ন হতেই পারে, তাই বলে কি এই ভাবে কোপাতে হবে? প্রানে মেরে ফেলতে হবে? আত্তপক্ষ সমর্থন এর কোন সুযোগ কি দেয়া যেত না।আসলে ওর অপরাধ টা কি ছিল? এর উত্তর আজও পেলাম না।
ছবি তোলার অনেক লোক ছিল, ছিল অনেক দর্শনার্থী, কিন্তু সাহায্য করার কি কেউ ছিল? কেও কি ছিল প্রতিবাদ করার জন্য কিংবা প্রতিরোধ করার জন্য? ছিল না।কারন জাতি হিসাবে আমরা ভিতু অথবা অজানা আশংকা আমাদের সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়। কারন হামলা করেছিল সরকারদলীয় ছাত্র সংঘটনের কর্মীরা। একটু দুরেই ছিল পুলিশের টহল গাড়ী।খবর পাওয়ার পরও তাদের সেখানে পৌছাতে তাদের দেরি হয়েছিল কেন?
এই দূর্বলদের ভিড়ে কিন্তু সাহায্য করার জন্য ছিল অপর এক নিচু জাতের মানুষ।পেশায় একজন রিকশা চালক। যে কিনা বিশ্বজিতকে হাসপাতাল নিয়ে গিয়েছিল।যার মনুষ মনুষ্যত্ববোধ অনেক বড়।
চাক্ষুস প্রমাণ থাকার পর ও বিচার করতে এত সময় কেন লেগেছিল? হাজার নথীর চাপে কিংবা আইনের মারপ্যাঁচে চাপা পড়েছে বিশ্বজিতের বাবা মার কান্না। নিরিহ এই ছেলেটার বাবা মা খবর কি সরকার নেয়?
এই হত্যাকান্ডের দায় কার? সরকারদলীয় ছাত্র সংঘটনের ৮ জন কর্মীর না পুলিশের না সরকারের? কেও দায় এড়াতে পারেন কি? পারেন না। সকলেই সমান ভাবে দায়ী। সমান দায়ী বিচারবিভাগও।
বিশ্বজিতের বিশ্ব যেমন অনেক বড় ছিল না তেমনি বড় ছিল না তার বাবা মার সপ্ন টাও। সপ্ন টা ঝাপসা হয়ে গেল। চোখে কষ্টের জল নিয়ে কি সপ্ন দেখা যায়?
নিচু জাতের মানুষের বুঝি সপ্ন দেখতে মানা?!!!







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













