
নার্সদেরকে উপর পুলিশি হামলা করা হল। শান্তি পূর্ন অহিংস প্রতিবাদীদদের উপর এই হামলা ন্যাক্কারজনক। রুটি-রুজির দায়েই এই ভবিষ্যৎ সেবা কর্মীরা আন্দোলনে নেমেছে। ওদেরকে এইভাবে মারধর না করলে কি হতো না? মেয়েদের সমাবেশে পুরুষ পুলিশরা মেয়েদেরকে মারধর করবে, লাঠিপেটা করবে, এই টা কি অশোভনীয় আচরন না?
বেকার নার্সরা নাকি কয়েকদিন আগে অনশন করছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গিয়ে ওদের অনশন ভাঙ্গিয়েছেন আর ওদের দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশে বেকার নার্সদের সংখ্যা অনেক। অপরদিকে স্বাস্থ্যখাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে রুগী প্রতি নার্সের সংখ্যা অপ্রতুল।
শিক্ষার্থী নার্সদের দাবী কি? ওদের দাবী একটাই। শিক্ষার্থী নার্সদের মুল দাবী হচ্ছে ডিপ্লোমাটা হয়ে গেলে যেন একটা চাকরীর ব্যবস্থা হয়, এইটুকুই। সেই কয়েক দশক থেকেই আমারা দেখে আসছি যে শিক্ষার্থী নার্সরা মাঝে মাঝে আন্দোলনে নামে তাদের চাকুরী স্থায়ী করা, বেতন সামান্য বর্ধিত করা, তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবীতে। অহিংস প্রতিবাদ খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।
নার্সিং একটা স্পেশালাইজ ট্রেইনিং। ওদেরকে কোন না কোন হাসপাতালেই চাকুরী করতে হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাসপাতালগুলতে নার্সদের প্রচুর সংকটও রয়েছে।তাহলে চাকুরীর জন্য আন্দলনে নামতে হবে কেন? আর আমাদের দেশের সরকারী প্রতিষ্ঠানে যারা নার্সিং পড়তে যায় এরা সাধারণত খুব স্বচ্ছল ঘরের ছেলেমেয়ে হয় না। পাশ করার পর সময় মতো একটা চাকুরী না পেলে এদেরকে যে কি বিপদের মধ্যে পড়তে হয় সেটা আমরা সকলেই অনুমান করতে পারি।কিন্তু ঐ একটাই- ডিপ্লোমাটা পাওয়ার পরে যেন একটা চাকরির নিশ্চয়তা হয়। এইটা কি খুব অন্যায্য দাবী? শিক্ষার্থী নার্সদের এই দাবীটা সেরকম অন্যায় কোন দাবী না।
বেসরকারি পরিসংখ্যান মতে সরকারী হাসপাতাল গুলতে চাহিদার তুলনায় নার্সের সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগ।তাহলে তো আরও নার্স আমাদের হাসপাতলে দরকার। এটা বুঝার জন্যে তো আর চিকিৎসা-সেবা উপর বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয়না। হাসপাতালে ডাক্তারের চেয়ে নার্সের সংখ্যা বেশীই হওয়ার কথা। আমাদের এখানে উল্টা। শহরের বড় হাসপাতালগুলির অবস্থা হয়তো খানিকটা ভিন্ন- কিন্তু বড় শহরের বাইরে তো অবস্থা সর্বত্রই এইরকম। আমাদের যে আরো অনেক নার্স দরকার সেটা তো সহেজই অনুমেয়।তাইলে সরকারী স্কুল থেকে নার্সিং ডিপ্লোমা নেওয়ার পরেই কিছু নার্সের চাকরি হচ্ছে না কেন? আমি জানিনা।তবে অনুমান করি সম্পদ বরাদ্দের সরকারী নীতিই হয়তো এর মুল কারণ হবে। খবরের কাগজে দেখেছি স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ওদের চাকরীর ব্যবস্থা তিনি করবেন। এরপর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে নার্সদের নিয়োগ হবে পিএসসির মাধ্যমে।শর্ত দিয়েছেন যাতে চলমান নিয়োগের দূনর্তির প্রথা যাতে বহাল থাকে।
নার্সদেরকে মারধোর করা হয়েছে সরকারের নিতান্ত অগণতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে। মাননীয় মন্ত্রী আপনার দরোজায় ধর্না দিতে গিয়ে একজন নার্সের গর্ভপাত হয়ে গেল,একদল মেয়ে পুলিশের হাতে মার খেল, এইসব কি করে সম্ভব গনতান্ত্রিক দেশে।
এই প্রক্রিয়াটা কি করেছেন? আমার তো মনে হয় না। দেশে নাকি আপনারা গণতন্ত্র চালু রেখেছেন- সেই জিনিসটা কোথায়? একদল শিক্ষার্থী নার্স আর বেকার নার্স কেন পেটের দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘরের দরোজায় গিয়ে ধর্না দিবে? কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওদের সাথে আগেই আলোচনায় বসবেন না? কেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারটা আগেই নিষ্পত্তি করতে পারবেন না?এইটুকুই যদি করতে না পারেন তাইলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একজনকে মন্ত্রী বানিয়ে কি লাভ? গনতান্ত্রিকভাবে আর কাজ করবেন আমলাদের স্টাইলে সেটা তো হবে না।
আর কি গণতন্ত্রটা কোথায় ? জবাবদিহিতা বলে একটা কথা আছে। এই জিনিসটা নিশ্চিত করার জন্যেই তো গণতন্ত্র। আপনারা হয়তো ভুলেই গেছেন যে মানুষ গণতন্ত্র চায় কারণ গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। আর এইটুকু যদি না থাকে, মাননীয় মন্ত্রী আপনাকে যদি জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নাই করতে হয়, তাইলে আর গণতন্ত্রের খোলসটা রেখে লাভ কি। পুলিশ মেয়েদেরকে রাস্তায় মেরে রক্তাক্ত করলো। একটা গর্ভপাত ঘটিয়ে ফলল। সভ্য দেশ হলে তো এই ঘটনা ঘটলে পুরা সরকারই কেঁপে উঠত। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি এই ঘটনা নিয়ে কোন কার্যকর জবাবদিহিতা করেন কিনা সেটাই আলোচ্য বিষয়।