
মিতু মারা গিয়েছে আজ অনেক দিন হল। হঠাত কেন জানি আজ মেয়েটার কথা মনে পড়ছে। স্নিগ্ধ মায়াবী ফর্সা চেহারার ছবি দেখেলেই কেমন জানি দমবন্ধ করা অনুভূতি হয়। মাহমুদা আক্তার মিতু প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে এবং সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী, সুখী সুখী হাসিমুখের দুই সন্তানের মা । কিন্তু মাহমুদা আক্তার মিতুর ছবি দেখলে তার দুই সন্তানের কথা খুব মনে আসে, বিশেষ করে সেই সন্তানের কথা যার চোখের সামনে তার মাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।ঘটনার বিহব্বলতায় ছোট্ট শিশুটি দৌড়ে পাশে আশ্রয় নিয়েছে।কতটা নির্মমতা এই ছোট্ট শিশুটি দেখেছে। শিশু টি সারা জীবন কত টা মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বড় হবে তা কি আমরা অনুধাবন করতে পারছি?
সবার ক্ষেত্রেই বাবাই হচ্ছে আদর্শ, হয়ত বাবাকে দেখেই মিতু বিয়েও করেছিল পুলিশ অফিসার বাবুল আক্তারকে। দুইটা ফুটফুটে বাচ্চা ছিল। স্বামী বড় পুলিশ অফিসার, সরকারী বেতনে মোটামুটি ভালোই চলছিল সংসার।
এই মেয়েটাকেই কিনা বেঘোরে প্রাণ দিতে হল। ছোট ছোট দুই সন্তান মাতৃহারা হল। কি নিষ্ঠুর বরর্র ভাবে একজন তরুণী মা ও এক পুলিশ অফিসারের প্রিয়তমা স্ত্রী কে হত্যা করা হল। ভাবতেই যেন কেমন শিরশিরে ভয়ের অনুভুতি হয়। মিতুর মৃত্যতে আমাদের কারোই কিছু আসবে যাবে না, দুদিন পরে কেউ মনেও রাখবে না।দেশের জন্য কাজ করতে গিয়েই বাবুল আক্তার বা তার পরিবার সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে।ধর্মীয় মতামতের ভিন্নতার কারণে হত্যা আর পুলিশ অফিসারের স্ত্রীর এই হত্যাকাণ্ডের কি কোন যোগসূত্র আছে?
সংগত কারনেই পুলিশের উপর আমাদেরকে নির্ভর করতে হয়। পুলিশের কাছে আমাদের প্রত্যশাও অনেক। পুলিশ যখন মৌলবাদী তাড়া করবে, বা ওদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিবে, বা ওদেরকে দেখলে গুলি করবে বা আইনের আওতায় নিবে তখন এইসব সন্ত্রাসীরা বা মৌলবাদী পুলিশের উপর হামলা করবে। যারা দেশ ও জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়জিত সরকারের দায়িত্ব সেই সকল বাবুল আক্তার এবং তার পরিবারসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে তদন্ত করা হবে, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া হবে। স্টেটমেন্ত যদিও সকল ক্ষেত্রে একটাই থাকে, তাহলে বারবার একই কথা ববলার দরকার কি।কথাটকে রেকর্ড করে প্রতিবার বাজিয়ে সুনালেই হয়। এই রকম ক্ষেত্রে কিন্তু সরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব স্টেটমেন্ত বদল করেন না কারন উনি এক কথার মানুষ। তদন্ত কমিটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে সন্দেহভাজন অপরাধি সনাক্ত করা হল, কথিত তদন্তও চলছিল, কথিত বলছি কারন তদন্তে আসতে লাগল নানা নাটকীয়তা। তদন্তে নাটকীয়তা থাকে এটাই তদন্তের নিয়ম।তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন অপরাধি ক্রসফায়রে মারা গেল কিভাবে? সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা তো পুলিশের হেফাজতে ছিল।পুলিশ কেন তাদের রক্ষা করতে পারল না কিংবা তারা ক্রসফায়ারই চেয়েছিল? আবার কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির হঠাত মৃতদেহ পাওয়া গেল যাদের পুলিশ খুজছিল। এটা কি ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা ? বাবুল আক্তারও কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হল, বিভ্রান্তিমুলক খবর প্রচার হল এবং কিছুদিন পর ছেড়ে দেওয়া হল। বাবুল আক্তার যদি অপরাধ করেই থাকেন তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হল কেন আর যদি অপরাধ না করে থাকেন তাহলে তাকে চাকুরী থেকে সেচ্ছা অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হল কেন? বাবুল আক্তার দোষী হলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হওয়া উচিৎ ছিল অথবা তাকে স্বপদে বহাল রাখার কথা ছিল।কোনটাই হয়নি। তাহলে কি মিতুর হত্যাকান্ড বা তার পরের পুরো ঘটনাটাই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা ছিল।