
স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের জন্য মুক্তচিন্তার মানুষকে হত্যার ধারাবাহিকতা প্রাচীনকাল থেকে আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। বাংলাদেশেও স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের জন্য লেখক হুমায়ুন আজাদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।তারপর রাজীব হায়দারকে। একে একে হত্যা করা হল রাজীব, অভিজিৎ, ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয়,দীপন ও নিলয় নীলকে।সব কয়জন ব্লগারকে একই ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
অভিজিৎ হত্যার বিচার চান না বলেছিলেন তার স্ত্রী বন্যা। ছেলে দীপনের হত্যার বিচার চান না বলেছিলেন দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। দীপনের বাবা বিচার না চাওয়ায় রাগ করেছেন সরকারের জনৈকএক মন্ত্রী। অস্রাব্য ভাষায় কটু কথা বলেছেন তাঁকে উদ্দেশ্য করে। শোকাতুর একজন পিতার মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে কথা বলা উচিত – এই সাধারণ কান্ডজ্ঞানটুকুও এই ক্ষমতান্ধ অমানুষেরা হারিয়ে বসেছেন।
এই সরকারের কাছে বিচার চেয়ে কোন লাভ নেই। তাঁরা জানেন। সরকার এবং সরকারের দায়িত্বপূর্ণ কর্তাব্যাক্তিরা এটা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিয়েছেন এইসব হত্যাকান্ড নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। এই সরকারের কাছে বিচার চেয়েআসলেই কোন লাভ নেই। আমরা না বুঝলেও বুঝেছেন বন্যা। বুঝেছেন দীপনের বাবা।শুধু তাই নয়, এই সব হত্যার বিচার করলে, হত্যাকারীদের ধরে বিচারের আওতায় আনলে তাদের সমূহ রাজনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা।
এদের হত্যার বিচার হয় নি বলে মৌলবাদী বা সন্ত্রাসীদের সাহস বেড়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির শিকড় আরো পাকাপোক্ত হয়েছে। হত্যাকারীরা উৎসাহ পেয়েছে। আরো খুনের পরিকল্পনা করেছে। এই খুনীদের থামানোর কোনব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে না। নেবে – এমন কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। তাই বেদনা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে, হয়তো আরো হত্যার খবর আমাদের শুনতে হবে।
তাই আর বিচার চাই না এই সরকারের কাছে।
ধারাবাহিকতায় আসতে থাকল ত্বকী, রেজাউল করিম সিদ্দিকি, মিতু, তনু, রিশা, রাজন, রাকিব আরো কত নাম। কার কার হত্যার বিচার চাইবো? আমরা যদি আইনের শাসনের দাবীতে সোচ্চার হই, আন্দোলনে নামি তাহলে?নাকি এখনও কি সময় আসে নি? আর কতো লেখক মরলে সময় হবে? আর সময় নেই। এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়। এই সরকারকে আর ছাড় দেয়া যায় না।
তাই আর বিচার চাই না এই সরকারের কাছে
ধর্মীয় মতামত বা মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে হত্যা, আর পুলিশ অফিসারের স্ত্রীর হত্যাকান্ড, কিংবা রিশা, তনুর হত্যাকাণ্ডের সাথে কি কোন যোগসূত্র আছে? শিশু রাজন কিংবা রাকিবের হত্যাকান্ডের মত ঘটনায় ও আমরা চুপথাকি কি করে।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি বলবেন যে আর কতবার আমরা পথে নামবো প্রতিবাদ করতে কিংবা বিচার চাইতে? আর বিচার চাই না এই সরকারের কাছে। কত রক্ত ঝরলে আপনার টনক নড়বে? আর কত বিচার চাইবো? নাপাড়লে অন্তত আমাদের মিথ্যা আস্বাশ দিয়েন না। কত রক্তাক্ত হবে এই রাজপথ? নাকি আমদের সবাইকে এক এক করে স্তব্ধ করে দিবে ঐ সকল হায়েনার দল।