
চাহিদা ভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নসহ ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৪১০ কোটি ৮১ লাখ। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২২ হাজার ৭৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮৪ কোটি ৬৪ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে।
বৃস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকে বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এসডিজির ৪ নং মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্য পূরণে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কেননা ভিত্তি মজবুত হলে ভবিষ্যৎ ভাল হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট হবে। এসব টয়লেট পুরুষ এবং নারী শিক্ষকরাও ব্যবহার করবেন। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভ্যাস গড়ে উঠবে।
চাহিদা ভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং চাহিদাভিত্তিক নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭৪০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ৩৮৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে সদর দপ্তর ও জেলা কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি টাকা। রাজশাহী হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ব্যয় হবে ৬০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
চিটাগং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প, এর ব্যয় হচ্ছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ৩৭ জেলা শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্প (২য় সংশোধিত), এর ব্যয় ৮৯৯ কোটি টাকা।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান এর বহিঃসীমানা দিয়ে লোপরোড নির্মাণসহ ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড হতে বায়েজিদ বোস্তামি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২০ কোটি ৪ লাখ টাকা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রধান প্রধান ১১টি ছড়ার পার্শ্বে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় হচ্ছে ২৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগের অধীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুসমুহ স্থায়ী কংক্রিট সেতু দ্বারা প্রতিঃস্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় হচ্ছে ১৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, বেইলি ব্রিজ আর থাকবেনা। এগুলো খুব ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের যে সব জায়গায় বেইলি সেতু রয়েছে, সেগুলো স্থায়ী কংক্রিটের সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হবে।
গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায় প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় পর্যায়) প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল কম্বাইনড সাইকেল বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এর জন্য ব্যয় হবে ৩ হাজার ২৫৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।