
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধে স্থানীয় ও মহানগর আওয়ামীলীগ নেতাদের বাধা দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসহ প্রধান ফটকগুলো অবরুদ্ধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় এ কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রদীপ মার্ডি বলেন, আজ এমন একটি সংকটময় সময় যখন বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনসহ প্রধান ফটকগুলো অবরুদ্ধ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আজকে যদি সকল শিক্ষার্থী ওইসব বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটু হুংকার ছাড়ত তবে তারা এই সাহস পেতো না। বিশ্ববিদ্যালয় তথা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকস্বরুপ মাননীয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্যকে হুমকি দেওয়া, প্রধান ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়া হচ্ছে অথচ প্রশাসন কেনো কঠোর হস্তক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করলে পুলিশ প্রশাসন আমাদের বাধা দেয়, আমাদের ওপর গুলি চালায় অথচ গতকালের ঘটনায় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।
এসময় হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মন রহমান বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর আমাদের জেলখানার আসামীর ন্যায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেতাদের তেল মালিশ করতে পছন্দ করে, তেল মালিশ করে তারা ক্ষমতায় আসে বলেই গতকাল আমাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতো না। মাননীয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন ছাত্রলীগ আইনের বাহিরে নয় তবে নেতারা কি আইনের ঊর্দ্ধে? আপনারা আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করুন যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্বশাসিত থাকে। আপনারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সুষ্ঠু বিচার করুন।
এসময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদীন বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নেতা বা স্থানীয়দের নিকট হতে ইজারা নেয়া নয়। আমরা মেধা দিয়ে এখানে পড়তে আসছি কারো দয়ায় আসিনি। কারো ব্যক্তিগত জায়গা-জমিতে পড়তে আসিনি।
২রা ফেব্রুয়ারি ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে প্রক্টর ও পুলিশ দিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন কিন্তু আজ কেন আপনারা নিশ্চুপ? যখন বহিরাগতরা আমাদের অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অপমান করে তাতে কি আপনাদের আমাদের মান-সম্মান যায় না? আমি মনে করি এর চেয়ে অপমানজনক ঘটনা ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। ২রা ফেব্রুয়ারির ঘটনায় মামলা করা হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে অথচ মূল ঘটনা কি ছিলো তা আপনারা জানেন। আপনারা সব জেনেও সেই শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে এমনকি বিভাগ থেকে গ্রেফতার করাচ্ছেন। আপনারা এখনো সতর্ক হয়ে যান, নইলে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় তা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানেন। আপনারা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না যাতে আমাদের মাঠে নামতে হয়।
ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল অন্তর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে আমাদের দেখতে হয় বহিরাগত টোকাইরা যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভবনগুলোতে কি লেখা আছে তা পড়তেই জানে তারা এসে তালা লাগিয়ে যায়। আমরা বলতে চাই সকল শিক্ষার্থী যদি থু-থু দেয় তাতেই তারা ভেসে যাবে। এখনি সময় বহিাগত দালালাদের এটা বুঝিয়ে দেওয়ার। তাদের হুশিয়ার করতে চাই এখানে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না যদি সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠে নামে। আজ এই প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই তারা এ সুযোগ পাচ্ছে। এসময় তিনি দ্রুত রাকসু নির্বাচনের দাবি রাখেন যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি পূর্ণ হয়।
মানববন্ধনে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী লিটন দাস বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় কারো ব্যক্তিগত নয়, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর। যা চলে খেটে মানুষের কষ্টের টাকায়, তাদের ট্যাক্সের টাকায়। এখানে বহিরাগত স্থানীয় কারো বা নেতাদের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
প্রসঙ্গত, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাটালগ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও গ্রন্থাগার সহকারী পদের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেন রাবি শাখা ছাত্রলীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। পরীক্ষা বন্ধ করতে তারা বিশ্ববিধ্যারয়ের বিভিন্ন ভবন ও ফটকগুলোতে তালা লাগায়। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে ও বের হতে বাধা প্রদান করে। এমনকি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ছিঁড়ে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয় নেতাকর্মীরা।