

ইন্স্যুরেন্স সেক্টর খাদের কিনারে নাই, খাদের ভেতরে পড়ে গেছে। ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে বিগত ১৫ বছর ধরে যে অনাচার হয়েছে এই অনাচারের পুঞ্জিভূত ফসল আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি।
বুধবার (১২ মার্চ) ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) আয়োজনে ও বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সহযোগীতায় “বীমা খাতের সংস্কার ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির ব্যক্তব্যে এসব কথা বলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম।
সেমিনারে আইআরএফ সভাপতি গাজী আনোয়ারের সভাপতিত্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জালালুল আজিম ও সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মুখ্য কর্মকর্তা ও সিইও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৫ বছরে যে (বীমা কোম্পানীকে) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তারা লাইসেন্স পেয়েছেন লুটতরাজ করার জন্য, এবং তারা করেছেন। আইডিআরএর অথরিটি সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। আইডিআরএ নামে অথরিটি কিন্তু তাদের অথরিটি নাই। আইডিআরএর যে ক্ষমতাটুকু আছে সেটা সীমিত, কিন্তু সেই ক্ষমতাটুকুও প্রয়োগ করতে পারে না।
বীমা আইন অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আইনটা তৈরি করা হয়েছে যেভাবে তা বীমা কারীদের পক্ষে। এই আইনে যেটুকু ক্ষমতা আছে সেটাও প্রয়োগ করা যায়না। আমি প্রসাশক নিয়োগ করলাম পরেরদিনই তা আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছু করার নাই সেখানে।
তিনি আরও বলেন, বীমা নীতি ২০২৫ তৈরি করার জন্য আমরা এখন উদ্যেগ নিয়েছি। মন্ত্রণালয় আমাদেরকে দ্বায়িত্ব দিয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের আগের অথরিটির ওপরে অনেক চাপ থাকত। রাজনৈতিক চাপের কারণে তারা অনেক কিছু করেছে বা করতে পারে নাই। আমাদের ওপরে কোন চাপ নেই।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আমি এবং আমার সহকর্মী যারা সদস্য আছেন, আমাদের কোন পাস্ট ব্যাগেজ নাই। আমাদের কারও প্রতি কোন আক্রোশ নাই। আমরা অনুরাগ বিরাগ নিয়ে কোন কাজ করছি না, করব না। আমরা এখানে এসেছি কাজ করার জন্য, যদি কিছু অবদান রাখতে পারি। আইডিআরএকে যদি ক্ষমতায়ন করা না যায় এবং একে যদি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না দেয়া হয় তাহলে কি হতে পারে সেটা আমাদের সকলের সামনে পরিষ্কার। রেগুলেটর হিসেবে আইডিআরএ তার দ্বায়িত্ব পালন করতে পারে নাই। সে কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাতকে যদি খাদ থেকে তুলে আনতে চাই তাহলে রেগুলেটরকে ক্ষমতায়ন করতে হবে এবং তার ক্ষমতা প্রয়োগ করার পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। এই পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে ক্ষমতা দিয়েও লাভ নাই। এখানে ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন, ইন্স্যুরেন্স ফোরাম এবং মিডিয়ার ভূমিকা রয়েছে পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে।
ব্যাপকভাবে আইনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. আসলাম বলেন, যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান এগুলোর উৎপত্তি আইন থেকে। আইনের ফাঁক ফোকরের কারনেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আইনের ফাঁক ফোকরের সুযোগ নিয়েই এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে এবং দিন দিন চলতে চলতে এটা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
আস্থার সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন সবকিছুর মূলে হলো আস্থা। এখন উপায় হলো বীমা বাধ্যতামূলক করা। বাধ্যতামূলক করা ছাড়া বীমার ব্যবসা প্রসার করার কোন পথ দেখা যাচ্ছে না। বাধ্যতামূলক করতে হবে কারণ হলো জনগণের আস্থা নাই। এটা সরকারকেই করতে হবে। আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে। আস্থা তৈরি করতে পারলে মানুষও বীমা করতে আগ্রহী হবে সরকারও এটা বাধ্যতামূলক করতে এগিয়ে আসবে।
সভাপতির ব্যক্তব্যে আইআরএফ সভাপতি গাজী আনোয়ার বলেন, ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে কাজের ক্ষেত্রে অনার ফিল করার ব্যবস্থা করতে হবে। এটুকু করতে পারলে তিন চার বছরের মধ্যে একটা ভালো ফলাফল আসবে।
মালিকরা একটা বড় ফ্যাক্টর উল্লেখ করে আইআরএফ সভাপতি বলেন, স্ক্যাম যারা করে, যে কোম্পানীগুলো নিয়ে সমস্যা, এই সমস্যাগুলো সেই প্রতিষ্ঠানের সিইও বা অন্যরা করেনি, মালিকরা করেছে। তাঁদেরকে কিভাবে আটকানো যায় সেই কাজ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে করতে হবে।
এএ