
রংপুর মহানগরীসহ এ অঞ্চলের ৫ জেলায় চলতি মৌসুমে আলুর চাষ হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। তবে এবার দাম না থাকায় লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। এমন পরিস্থিতি বজায় থাকলে এবার ক্ষেতের আলু ক্ষেতেই পড়ে থাকবে-এমনটা শঙ্কা করছেন অনেকেই। এছাড়াও কোল্ড স্টোরেজে ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন।
চাষিরা বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর আবাদ রেকর্ড পরিমাণ হয়েছে। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। কারণ বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ১২-১৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ কেজিতে খরচ পড়েছে ২০ টাকার মতো। এতে লাভের আশা তো দূরের কথা, চাষের দেনা পরিশোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক চাষি।
আলু চাষিরা বলছেন, এবার বীজ ও সারের দাম বেশি হওয়ায় প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৯-২০ টাকা। সেই আলু ১২-১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে তাদের। অথচ খুচরা বাজারে এখনও আলু প্রতি কেজি ১৮-২৫ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। মাঝখানে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। এ অবস্থায় হাজারো কৃষককে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর মহানগরীসহ জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি। অতীতের রেকর্ড ভেঙে চাষ হয়েছে ৬২ হাজার ২৮০ হেক্টরে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। তবে তা ২০ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আফজাল হোসেন জানান, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিবছর রংপুর অঞ্চলে আলু চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত থাকে। উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বাদে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ সব সময় চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে। চাষিরা কোল্ড স্টোরেজের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে আলু সংরক্ষণ করলে এখন যে বাজার মূল্য তার চেয়ে বেশি পাবে বলে আশা করি।
বিএইচ