
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনও গাজায় বর্বর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সোমবার (৩১ মার্চ) তাদের হামলায় অন্তত ৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগের দিন দখলদার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ৬৪ ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও ছিল।
একই পরিবারের ১২ জনকে হত্যা
সোমবার বিকেলে গাজার একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক। এসময় বাড়িটিতে একটি পরিবারের সদস্যরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য একত্রিত হয়েছিলেন। হামলায় পুরো পরিবারই নিহত হয়েছে।
হাসপাতালে স্বজনদের আহাজারি ও শোকের দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। যারা বেঁচে গেছেন, তারা হাসপাতালে এসে স্বজনদের শেষ বিদায় জানাচ্ছিলেন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলার পরপরই ১০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। ৪৫ মিনিট পর আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হামলায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সপরিবারে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত
আল-জাজিরা আরবির বরাতে জানা গেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মোহাম্মদ সালেহ আল-বারদাউইল, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান নিহত হয়েছেন।
এর আগে, রাফাহ বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের আল-মাওয়াসি এলাকায় আশ্রয় নিতে নির্দেশ দেয় ইসরায়েল। তবে নতুন এই স্থানান্তর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আল-মাওয়াসিতে বোমা হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করে দখলদার বাহিনী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্যমতে, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৩৫৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ জন। তবে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর বলেছে, মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হাজারো মানুষকে মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এনজে